নেটখাতা

December 31, 2007

২০০৭ শেষ, ফেডোরা ৮, সিপিএম, এবং আমাদের পিতৃশ্রাদ্ধ

গত কয়েকদিন ধরে মধ্যমগ্রামে এক নৃত্য-উৎসব চলছিল। মানে, টিভিতে যেমন হয়, কোনও ফিল্মি গানের সঙ্গে নাচ, তার প্রতিযোগিতা। সংগঠক দেবীগড় সাংস্কৃতিক চক্র, মানে, সিপিএমের গনফ্রন্ট যেমন ডিওয়াইএফআই, তার আবার গনতরফ্রন্ট ওই চক্র। তার জন্যে মধ্যমগ্রামের গলির পর গলির গোটা রাস্তা জুড়ে ছড়ানো এবং জড়ানো হয়েছিল আলোকমালা, প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাস জুড়ে সমস্ত খুঁটি ভূষিত হয়েছিল মাইকের চোঙায়।

আমার বাড়ি সেই ব্যাসেরও বাইরে, কতটা বাইরে তার একটা তুলনা দেওয়া যাক। এই মাইকায়িত এলাকার শেষ চোঙদার খুঁটি ছিল মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ির গায়ে, যেখান থেকে আমার বাড়ি আসতে হলে প্রথমে দুমিনিট মত, এবং তার পর লম্ব ভাবে বেঁকে আবার এক মিনিট মত আসতে হয়, মানে, বহুভুজ বরাবর সোয়া দুই মিনিট মত হাঁটা হবে। এর পরেও, আমার বাড়ির সমস্ত জানলা এবং দরজা বন্ধ থাকার পরেও, আমার বাড়ির কমপক্ষে দুটি দরজা বা একটি জানলা (কাঁচের এবং বন্ধ) ভেদ করে সেই ‘মুংলা, মুংলা’ ইত্যাদি গানের ঝটকা আমার কম্পিউটার টেবিলের সামনে বসে থাকা আমার মাথায় আঘাত করছিল। ড্রামের বিটগুলো এসে লাগছিল যেন পেটে। আমি আমার একাধিক বন্ধুকে টেলিফোন চলাকালীন কথা বন্ধ করে ওই আওয়াজ শোনাই এবং তারা শুনতেও পায়।

এদিকে গতকাল আমার একটা কাজও ছিল, এলএফওয়াই-এর সঙ্গে যে ডিভিডিটা দিয়েছে, ফেডোরা ৮-এর, সেটা পত্রিকার সঙ্গে দেওয়া সিডি বলে আমার খুব একটা ভরসা হয়নি। এদিকে নিজের মেশিনে ফেডোরা ৭ দিব্য চলছে, কিন্তু অন্যদের জন্যে, সেটা বিট টরেন্টে নামাতে বসিয়েছি পরশু থেকে। অ্যাজেরিউসের পোর্ট খোলা নিয়ে বড্ড ঝামেলা হয়, তাই একটা নতুন ক্লায়েন্ট ডেলিউজ দিয়ে। বেশ কাজ করছে সেটা, নিজেই খুঁজে নেয় কোন পোর্টে কাজ করতে হবে। আবার কাল খুলে যাবে কলেজ, তার আগে হয়ে গেলেই ভাল। একে আমাদের এদিকে এই অক্লান্ত লোডশেডিং, এবং তার উপর আমার মেশিনও প্রায় আট বছরের বুড়ো অ্যাথলন ১৮০০, তার একটা হার্ডডিস্কও তাই। তাই নজরদারিটা রাখতেই হয়। গত কাল রাতেও তাই, শোয়ার আগে, বারোটা অব্দি মেশিনের সামনেই বসেছিলাম। দু-একটা মেলের উত্তর দিলাম, ইত্যাদি করছিলাম।

গত কদিন ধরেই নৃত্য-উৎসবে, মানে আমাদের এই পিতৃশ্রাদ্ধ চলছিল। গত পরশুর মত, বা তার আগের দিনের মত, আমরা বেশ কিছু লোক কষ্ট পাচ্ছিলাম। সকলেরই একই কথা, পুলিশকে ফোন করে কী হবে, বরং ওরা জেনে যাবে, পুলিশই গিয়ে ‘পার্টি’-কে বলে দেবে। সিপিএমের ত্রাস-নির্মাণ এতটাই পূর্ণাঙ্গ যে, এমনকি ব্যক্তিগত কথোপকথনেও মানুষ দেখেছি, ‘সিপিএম’ নামটা ব্যবহার করে না, বলে ‘পার্টি’। টেলিফোনে অব্দি। তাও শেষ অব্দি, গত কালও, অন্য দিনগুলোর মতই, বেশ দুচারবার পুলিশকে ফোন করা হল। পুলিশ ভারি ভালো ব্যবহার করল। হ্যাঁ দেখছি। তারা দেখল তারা, চাঁদ, শীতের রাত, মধ্যযাম রাত্রির শোভা, বোধহয়।

অন্য ঘরে মেয়ে রু আর তার মা ঘুমোচ্ছে, আওয়াজ আটকাতে জানলার পাল্লার সামনে মোটা বেডকভার ঝোলানো। আমি দেখছি, ডেলিউজে বিন্দু বিন্দু করে বাড়ছে ফেডোরা ৮ এর ডিভিডির ইমেজ, রেস্কিউ সিডির ইমেজ, এবং তাদের এসএইচওয়ান সাম। আওয়াজগুলো কানে শরীরে বাড়ি মেরে চলেছে। হঠাৎ একবার মনে হল, এই সব ফ্রি সফটওয়্যার, জিএলটি, লিনাক্স এইসব, বা যে কোনও কাজই, কোনও কাজ, করার মানে কী? এই সিপিএমই তো ইতিহাস। আর তো কিছু নেই, কোথাও নেই। মনে হল মেশিনে একটা লাথি মারি।

এবং এই ত্রাস তো প্রতিদিন সংঘবদ্ধতর হচ্ছে। এই অত্যাচারও নন্দীগ্রামের পর থেকে আরও স্পষ্ট। যা খুশি করব। নেতারাও, একটা মুখ্যমন্ত্রীও কথা বলছে সন্ত্রাসবাদীদের ভাষায়। ভুল ইংরিজিটা যদি বাদও দি, ইট মারলে পাটকেল খেতে হবে — এটা তো সন্ত্রাসবাদীর ভাষা। ইট মারলে সে তো অন্যায় করছে, তাকে রাষ্ট্রের শাসনে আসতে হবে, রাষ্ট্রের আইনে শাস্তি পেতে হবে — তোমার তো রাষ্ট্রের ভাষা বলার কথা, তুমি রাষ্ট্রের অংশ। তুমি সংবিধানবিরোধী কথা বলো কী করে? তারপর ক্ষমা চাওয়ার ভাঁড়ামো, বেশ চুকে গেল, পার্টিতর ওই ডিওয়াইএফআইরা, বা ডিওয়াইএফআইতর ওই চক্ররা এবার থেকে কি কাউকে মেরে একবার ক্ষমা চেয়ে নেবে, ব্যাস খেল খতম, রাষ্ট্রর দায়িত্ব সম্পূর্ণ?

দম আটকে আসছিল, গা গোলাচ্ছিল, ও ঘরে গিয়ে একবার ঘুমন্ত মেয়ের পাশে বসে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বসে রইলাম। তাতেও কিছু হল না। কী হবে কোনও কিছু করে? সব কিছুই তো সিপিএম।

… সেই প্রেতনৃত্য চলল ভোর পাঁচটা অব্দি …

আমি শেষ অব্দি ফেডোরা ৮ এর ডাউনলোড থামিয়ে দিইনি। মেশিনে লাথিও মারিনি, ছি মারতে পারি, আমার কতদিনের সঙ্গী, কত লেখা লিখেছি, আর ওর নামও মামদো, মহম্মদকে যা বলে ডাকতাম, সোহাগের সময়। ফেডোরা ৮ ডাউনলোড চলছে, এখন একটু পজ করে নিয়েছি ডেলিউজ, এই ব্লগটা লিখছি বলে। … রক্তক্লেদ বসা থেকে রৌদ্রে ফের উড়ে যায় মাছি / সোনালি রোদের ঢেউয়ে উড়ন্ত কীটের খেলা কত দেখিয়াছি …

Filed under: floss — dd @ 10:33 pm

December 27, 2007

মেয়ের মুণ্ড, বাংলা ওয়েবপেজ, এবং ফ্লস

কাল আমার এক আত্মীয় এসেছিল, তার মেয়েকে নিয়ে। রু-এর চেয়ে দুই দিনের বড়। অথচ মাথা ভর্তি ফুলোফুলো চুল। যেখানে রু এর মাথায় এই পাঁচ মাস ন-দিন বয়সেও কিছু ধূসর আঁচড়ের মত চুলের অ্যাপলজি। আমি গুণে দেখিনি। কিন্তু চাইলে গোনাই যায়। মা বলল, ও তো হবেই, তোরও চুল উঠেছিল দেরিতে, তোর তো সবকিছুই দেরিতে, তোর মেয়েরও তাই হবে।

ঠিক তাই। আমার সবকিছুই খুব দেরিতে। হয়ত, বড্ড দেরিতে। আমার গ্নু-লিনাক্সের বইটার একদম গোড়াতেই লিখেছিলাম, লিনাক্স ব্যবহার করতে, শিখতে শুরু করে মনে হয়েছিল, এত দেরিতে এটা পেলাম কেন, কম বয়সে পেলে তো আরও কত শিখতে পারতাম। তখন তো কাজ, কাজের ঝঞ্ঝাটও কত কম ছিল। বেশি ছিল উদ্যম, মানে উত্তেজিত হওয়ার দম।

কাল আর আজ এই দুদিন বসে আমার বেশ কিছু লেখার ওয়েবপেজ বানালাম। অনেকগুলো গল্পের ওয়েবপেজ এবং তার সূচী। লেখাগুলো আগেই ছিল আমার সাইটে। পিডিএফে। এর কিছু লেখা এত পুরোনো যে সেগুলো পিডিএফ ছাড়া আর কিছুই নেই। সেখান থেকে ইউনিকোড করাও যাবে না। নিজে নিজেই ওয়েবপেজ বানিয়ে বড় আমোদ পেলাম। কিছুই না, একদমই ভ্যানিলা ওয়েবপেজ। কিন্তু নিজে নিজেই করে ফেলার একটা মজা আছে। আরও যেটা আমার কাজের জায়গা নয়।

যা বলছিলাম, এই লেখালেখিও শুরু হয়েছিল আমার বড় দেরিতে। এমএসসির-ও পরে এসে। মোটামুটি যে বয়সে বাঙালি ছেলেপিলে লেখালেখি ছেড়ে দিয়ে কাজে মন দেয়। হয়তো কোনও দিন লিখতামও না। কিন্তু সেইসময় রাজনীতি ছেড়ে বসে যাওয়ার বেদনাটা এমন ঘিরে ধরেছিল, সেটার হাত থেকে বাঁচার বাসনাতেই বোধহয় লিখতে শুরু করেছিলাম। আমার প্রথম গল্প ছাপা হয়ে বেরিয়েছিল ‘বারোমাস’ পত্রিকায়। এপ্রিল ‘৮৮তে, একটি লড়াইয়ের ব্যবচ্ছেদ। নিজেরই আজ দেখে কেমন অদ্ভুত লাগছিল। বেশ অনেক জায়গা অনেকটা কাঁচা গদ্যও লাগছিল। ওরকম অবশ্য লাগেই, পুরোনো লেখা।

ওয়েবপেজগুলো বানালাম গেডিট-এ। ও, রুণা বকেছিল, ইংরিজি নাম না-দেওয়ায়, গেডিট মানে gedit, গুহনোমের টেক্সট এডিটর। যদিও আমি এক্স-উইনডোজ ব্যবহার করি এক্সএফসিই (Xfce)। বানাচ্ছিলাম আর দেখে নিচ্ছিলাম ফায়ারফক্স (Firefox) আর এপিফ্যানি (Epiphany) আর কংকোরার (Konqueror) চালিয়ে। ঠিকঠাক দেখাচ্ছে কিনা। বেশ মজা পাচ্ছিলাম এই ভেবে যে, লেখাটার সমাপ্ত অবয়বটাও হচ্ছে আমার হাতেই। এই করে ফেলা আর শিখে ফেলার মজাটা ওই বুড়ো বয়সে এসে আমাকে দিয়েছিল ফ্লস। যা যা দিয়ে আমি কাজ করলাম সেই গোটাটাই তৈরি একটা কমিউনিটির, সম্প্রদায়ের। আমি সেই জ্যান্ত সম্প্রদায়ের একটা জ্যান্ত অংশ। এটা যখনই ভাবি একটা আবেগ তৈরি হয়। আর একবার ধন্যবাদ ফ্লসকে, তাই কায়দা করে, নিজেকেও।

Filed under: floss — dd @ 10:54 am

December 24, 2007

কম্পিউটার, বাংলা, ওসিআর

আজ সকালে, আমাদের বাড়ির সামনে ফ্ল্যাটবাড়ির দরজা দিয়ে বেরিয়ে একটি কুচো বালিকা গপ্পোগাছারত তার মা-কে প্রশ্ন করে, “মা, শাঁখ বানানে চন্দ্রবিন্দু আছে?” আমি চন্দ্রবিন্দুটা এখানে আপনাদের বোঝার স্বার্থে দিইনি। সত্যিই সে চন্দ্রবিন্দুটা উচ্চারণ করেছিল। এতে তার মা, যিনি, সকলের জ্ঞাতার্থে জানাই, বাঙালি এবং গ্রাজুয়েট, এবং কোনদিনই নন-রেসিডেন্ট-বাঙালি নন, উত্তর দেন, “আমি তো ঠিক মনে করতে পারছি না, তুই বই থেকে দেখ না”, এবং আবার তার ক্রিয়ায় রত হন।

আমার কলেজের এক বাংলা মাস্টারমশাই, তিনি ডঃ-ও বটেন, গত পুজোর ছুটির পড়ার দিনে, ভোজ উপলক্ষে (কেন ভোজ? — এই প্রশ্ন করবেন না, কলেজের মাস্টারমশাইদের লেখাপড়ার দায়িত্ব থেকে মুক্তিপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে এক গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে — মাস্টারমশাইরা কী করে? কেন, খায়। শুধু খায় তারা। হয়ত এই দায়িত্ব আমাদের কলেজে বিকশিততর, উত্তর কলকাতার খাবারের প্রাচুর্য ও সুলভতার কারণে। ঠিক যখন শোভাবাজার মেট্রো ইস্টিশনের ধারে রাস্তার রেলিঙের গায়ে এই ডিসেম্বরের শীতে পড়ে থাকে অভুক্ত ভিখিরির বাচ্চা, বস্তুটা মরে গেছে না বেঁচে আছে, সেটাও ভালো বোঝা যায় না।) টিচার্স রুমের বোর্ডে নোটিশ লেখেন, “দূর্গাপূজার ভোজ”। আপনারা যারা পড়লেন, আপনাদেরও অনেকেই, স্বীকার করুন আর নাই-করুন, বুঝতে পারেননি, কেলোটা কোথায়। আমি যখন তাকে বললাম, ওটা বোধহয় “দুর্গা” হবে, তিনি আমাকে একটু এলিট উচাটন নিয়ে প্রতিপ্রশ্ন করলেন, “তুমি কি শিওর দীপঙ্করদা?”

আজকে ফ্লিকারে আমার একটা ছবির সূত্রে মাথা-খারাপ করে দেওয়া বিতিকিচ্ছিরি সব প্রশ্ন করছিল সঙ্কর্ষণ। ঠিক হাস্যরস তৈরির বিন্দুতে যা হয়, যা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক, সেটাকে প্রসঙ্গের ভিতর টেনে আনার। তার সূত্রে কথা এল শিবরামের, সুকুমারের। লেখাগুলো ওকে পড়াতে ইচ্ছে হচ্ছিল। তারপর মনে পড়ল, বাংলা লেখা পড়ানো মানে তো স্ক্যান করে ছবি তোলা, তারপর তার দেজাভু বা পিডিএফ ফাইল করে পাঠানো। আমাদের তো একটা ওসিআর এখনো হল না।

ত্রৈলোক্যনাথ, রামেন্দ্রসুন্দর, শিবনাথ শাস্ত্রী ছেড়ে দিন, রাজশেখর বসু বা হুতোম প্যাঁচা বা ঈশ্বর গুপ্তের কথা তুললেও, এমনকি প্রায় আজকের আখতারুজ্জামান, কমলকুমার, ছেলেপিলেরা কেমন মরা তেলাপিয়ার মত চোখ করে চেয়ে থাকে। যে পড়তে চায় না, তার কথা থাক। পড়তে চায় এমন বহু ছেলেমেয়েও তো আছে। তারা পাবে কী করে? অথচ, কম্পিউটারের কল্যাণে এখন লেখাপড়া কত সস্তা হয়ে গেছে। আমার নিজের ঘরে হাজার দুয়েক বই আছে, সেই বই জমেছে অনেক বছরে, বহু কিছু না-কিনতে পারা, না-কেনা, বৌয়ের বহু যুক্তিসঙ্গত গালাগালির ইতিহাস শরীরে নিয়ে তারা জমেছে। অথচ, হাজার নয়, কয়েক লাখ বই আছে আমার মেশিনের হার্ডডিস্কে। এবং তার জন্য প্রায় কিছুই ব্যয় করতে হয়নি আমায়। গত কয়েক বছরে কটা বই আমি আমি ছাপার হরফে পড়েছি, আমার নিজেরই সন্দেহ আছে। শুধু কিছু বাংলা বই ছাড়া।

বাংলা বইয়ের সূত্রে মনে এল, রু-এর জন্যে গোটা সুকুমার রায় আর উপেন্দ্রকিশোরটা অডিওয় তুলে রাখার প্ল্যানে নভেম্বরে দে’জ থেকে উপেন্দ্রকিশোর আর সুকুমার রচনাবলী কিনলাম, আয়তনের তুলনায় বেশ সস্তা। শদুয়েক করে। কিন্তু, পাতায় পাতায় ভুল, মূল লেখায় যেখানে ছবির প্রসঙ্গ আছে সেই ছবিগুলো দেওয়া হয়নি, কোনও লেখার তালিকা দেওয়া নেই বইয়ের শেষে, ইত্যাদি। এককথায় যাচ্ছেতাই। অথচ বাংলা বই মানেই এই তা তো নয়, সিগনেট থেকে, মিত্র ঘোষ থেকে বহু ভাল বই পেয়েছি আমরা, আনন্দ বই ছাপে বেশ যত্ন নিয়ে। অসম্ভব নিষ্ঠা নিয়ে ছাপে উদ্বোধন। ওদের কাজটা প্রায় অবিশ্বাস্য। শঙ্করের বেদান্তদর্শনের মত আয়তন এবং জটিলতার একটা বইয়েও, এখনও একটাও কোনও ত্রুটি আমি পাইনি, যতদূর পড়েছি, বা, কথামৃত। উদ্বোধনের কথামৃতটা হাতে নিয়েই একটা তৃপ্তি হয়, এখনো কেউ বাংলায় বাঁচে, এই কথা মনে পড়ে।

যাই হোক, অন্য প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছি, একটা ওসিআর যদি থাকত, বাংলার এই গোটা অবিশ্বাস্য ভাণ্ডারটা তুলে দেওয়া যেত। এবং, খেয়াল করুন, কাফকার গ্রেট ওয়াল অফ চায়নার সেই রূপকল্পের মত, একটু একটু করে –পিসমিল কন্সট্রাকশন– আজ একটু, কাল আর একটু, পরশু আরও একটু। এবং, কম্পিউটারের কারণে, সেটা তোলা মাত্রই চলে আসত পাঠের আওতায়, ছাপার ঝক্কি এবং খরচ এবং ব্যয় শূন্য। এবং, এর চেয়েও বড় কথা, চাওয়া মাত্র সংশোধনযোগ্যতা। এবং সংশোধনমাত্রই ফের সেটা পাঠের আওতায়।

অথচ? অথচ নেই। কোনও ওসিআর নেই বাংলার। চৈনিক ভাষা, ইংরিজি, হিন্দি এবং তামিলের পরেই এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মানুষ যা বলে, বোধহয়। দুটো দেশ জুড়ে ছড়ানো। একটা দেশে সেটা জাতীয় ভাষা।

আমি নিজে সরাসরি জানিনা, কিন্তু বহু কথা শুনেছি এই ওসিআর নিয়ে। বহু হারামজাদার নাকি বাড়ির সোফা এবং কুত্তার বকলশ হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে মারা বাংলা তথা ইন্ডিক ওসিআর বানানোর টাকায়। অথচ তারা কিঞ্চিৎ গোবরও প্রসব করেনি। শেষ যা শুনেছিলাম, বাংলা ওসিআর বানানোর নামে যা হয়েছে তা হল, টেসেরাক্টের ইতিমধ্যেই তৈরি থাকা কোডের উপর ভিত্তি করে, দুটো কলামকে একটা কলাম বানানোর প্রকৌশল। অথচ লোকে নাকি টাকা মেরেই চলেছে। আমাদের ফ্লসের তো এলেমদার ছেলেপিলে কম নেই। তাদেরকে দায়িত্ব দিতে পারে না কেউ? আইএসআইয়ে, একসময় শুনেছিলাম, ওসিআরের একেবারে হদ্দমুদ্দ হয়ে গেছে। সেই অশ্বডিম্ব কোন ইনকিউবেটরে তা দেওয়া হচ্ছে?

আচ্ছা, হাইকোর্ট বা সুপ্রিমকোর্ট ছাড়া কেউ তো আজকাল জল উঁচু না নিচু সেটুকুও বলে না। আমরা একটা মামলা করতে পারি না? যে হারামজাদারা এই টাকাগুলো মারল, তারা হয় বাংলা ওসিআর দিক, নয়তো, টাকা ফেরত দিক — এই বলে?

Filed under: floss — dd @ 11:17 am

November 26, 2007

ঔপনিবেশিক অশিক্ষা, ওয়ার্ডপ্রসেসিং, ওওও, এবং মাইক্রোসফট ওয়ার্ড

সিচুয়েশনালি আমি কিছুটা খার খেয়েই আছি, কিন্তু শুধু সেটুকুই নয়। এই ব্লগটায় সত্যিই চটে যাওয়ার মত কিছু বিষয় রয়েছে। সিচুয়েশনালি আমি যে খার খেয়ে আছি, তার একটা কারণ জ্বর। পরশুদিন, বেলঘরিয়ায় একটা নাটকের গ্রুপের ফাইনাল রিহার্সাল ছিল। সেই বেটাবেটিরা কিছুতেই বুঝল না, আমি যথেষ্ট বুড়ো হয়েছি, রাত্তিরের হিমের মধ্যে খোলা ছাদে বসে রিহার্সাল দেখা আমার ধম্মে সইবে না। তা শালা বোঝে কে? সংস্থানগত ভাবে চটে থাকার দ্বিতীয় কারণ সঙ্কর্ষণ। সেটা এমনই পেঁজো, কদিন বাদে বাদেই আমার ব্লগে এসে একটা করে কমেন্ট করে যাচ্ছে, কিছু লিখছ না কেন?

তা যাই হোক, এরকম একটা অবস্থায়, সকালবেলায় একটা লেমলেড (কোনও লেমনেড নয়, একটা জ্বরের ওষুধ, প্যারাসিটামল) খেয়ে আমি একটু শিক্ষিত হওয়ার জন্যে একটা পিডিএফ পড়তে বসলাম। এইসব আইপিটেবল, ফায়ারওয়াল বিষয়ে আমার অশিক্ষাটা প্রায় অতলান্ত। এদিকে, এগুলো নিয়ে মাথা ঘামাতে হচ্ছে প্রায়ই। প্রথম হল অ্যাজেরিউস। সেটা চালাতে হলেই আমায় ফায়ারওয়ালটা অফ করে দিতে হচ্ছিল, ঠিক কোন পোর্টটাকে কী ভাবে ছাড়তে হবে, সেটা আমার মাথায় ঢুকছিল না। দ্বিতীয়টা হল স্কুইড। আমার ডেস্কটপে একটা স্কুইড চলে, আর ডেস্কটপ থেকে আইপি-ফরোয়ার্ডিং এনাবেল করে দিয়ে, স্কুইড-ডট-কন্ফ ফাইলটা একটু বদলে, এবং ফায়ারওয়ালে ৩১২৮ নম্বর পোর্ট, যেটা দিয়ে ডেস্কটপের স্কুইডকে ধরে ল্যাপটপটা, সেটাকে ছাড় দিয়ে, ল্যাপটপ থেকে বেশ করা যাচ্ছে নেটসংক্রান্ত সবকিছু। কিন্তু এই করাগুলোর সময়ে ব্যাপক সাহায্য নিতে হয়েছিল সুস্মিতের কাছ থেকে। তখন ওকে অনেকবার বলেছিলাম, আমায় নেটওয়ার্কিংটা একটু শেখাস তো। ও বলেছে, পরীক্ষা হয়ে গেলে আমায় ক’দিন পড়াবে। এর আগে সায়মিন্দুকেও অনেকবার বলেছি, শেষ অব্দি ঘটে ওঠেনি।

যাইহোক আমার সেই নেটওয়ার্কিং সংক্রান্ত নিবিড় না-জানার সূত্র ধরে, সুস্মিত আমাকে একটা লেখা পড়ার কথা বলেছিল। ডব্লুবিউটির সাইট থেকে সেই পিডিএফটা নামিয়ে নিয়েছিলাম। আজ সকালে, আমার দুর্ভাগ্য, আমি সেই লেখাটা পড়তে গেলাম। লেখাটা যতটুকু পড়তে পেরেছিলাম, তাতে খারাপ লাগছিল যে তা নয়। কিন্তু পড়া গেলনা। নিছক বিরক্তি থেকে। এত রাশি রাশি অযত্ন গোটা লেখাটায়। অযত্ন মানে?

কমা, এবং ফুলস্টপ, তারা যখন বসে, তাদের আগে বা পরে, জায়গা বা স্পেস দেওয়া বা না-দেওয়ার কিছু নিয়ম আছে। কোথাও কমার আগে স্পেস, কোথাও পরে। কোথাও নতুন বাক্য শুরু হয়ে যাচ্ছে কোনও স্পেস না দিয়ে। আমার পড়তে গিয়ে খুব বিরক্তি হল। কেন এমন হবে? ও তো লেখাটার বিষয়ে সিরিয়াস: নিজেই যখন লেখাটা রেফার করেছিল, আমার সাহায্যার্থে। একটা টেক্সট টেক্সট হয়ে ওঠে টেক্সটোচিত কিছু নিয়ম মেনে। কিন্তু এটা তো কোনও টেক্সটই নয়।

এত রাগ হচ্ছিল, তখনই একটা ফোন করলাম ওকে। প্রথম কথাটাই বললাম, ওয়ার্ডপ্রসেসর বলে একটা ব্যাপার আছে, জানিস। তারপর বহু কথা বললাম ওর সঙ্গে। ও যা বলল, ও জানেই না, কমা বা ফুলস্টপের পরে স্পেস দিতে হয়। আমি বললাম কী করে জানিস না: তুই তো বই পড়িস। ও আমায় বলল, তুমি বেশ কয়েকজনকে জিগেশ করে দেখো, অনেকেই জানে না। এবং তার পর যা বলল, সেটা আরও ভয়ঙ্কর। ওর এই লেখাটা ফর্মালি পাবলিশ হবে বলে, সাইটে, বেশ কয়েকজন মাস্টারমশাইয়ের হাত ঘুরে গেছে। তারাও কেউ ওকে কিছু বলেনি, এবং কিছু বদলায়ও নি। এভাবেই চলে গেছে লেখাটা সাইটে।

আমার প্রথম মনে হল, এরা, এই মাস্টারমশাইরা — এরা কারা? এরা ক’জন? ভয়ঙ্কর গল্প তো আমি আগেও শুনেছি, আমার নিজের গ্নু-লিনাক্স নিয়ে বইয়ে তার দু-একটা গল্প ব্যবহারও করেছি। আইট্রিপলই-র সভ্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক, তিনি নাকি আবার কারনেল ডিভেলপও করেন (হায় খোদা তুমি আমায় কোথায় নিয়ে চলেছ: মুরগীহাটায়?) একবার এক আলোচনায় বলেছিলেন, আমি লিনাক্স আট ব্যবহার করি, কোন কারনেল তিনি ব্যবহার করেন, এই প্রশ্নের উত্তরে। তখনো তিনি কারনেল আর রেডহ্যাটের ভার্শন নম্বরে পার্থক্য করতে জানেন না।

এরা কারা? এক জন ছাত্র, নিজের জীবনের প্রথম সিরিয়াস টেক্সট লিখছে, কত আবেগ নিয়ে, আগ্রহ নিয়ে। সেটাকে এরকম নষ্ট শশা পচা চালকুমড়োর মত করে দেওয়ার এই রাজনারায়ণ বসু-র লেখার ঔপনিবেশিক নিরক্ষরতা সম্পন্ন মাস্টাররা কারা? তারা কজন? কোথায় থাকে? কী দিয়ে ভাত খায়?

কিন্তু আমার বিস্ময়-বিরক্তির পাঠ তখনও শেষ হয়নি। আমি সুস্মিতকে বলেছিলাম, কিন্তু, এই অকালকুষ্মাণ্ডরা তোকে না-বললেও, তোর কাছে তো ওয়ার্ডপ্রসেসর ছিল, ওওও, ওপনঅফিস অর্গ, সেটাই তো দেখিয়ে দেবে, কোথায় ভুল হচ্ছে। ও বলল, কই দেখায়নি তো। আমি তখন ভাবলাম, ও নিশ্চয়ই ভুলভাল বলছে। কিন্তু তখনো আমার অবাক হওয়ার কিছু বাকি ছিল। আরও, আমার মাথায় স্মৃতিতে আসছিল, আমি দেখতে পাচ্ছি, মাথার ভিতরে, যতিচিহ্নের আগে পরে ঠিকঠাক স্পেস না-দিলে, নিচে বেঁকাবেঁকা লাল দাগ।

মজার কথা, এবার আমি ভুলভাল কিছু যতিচিহ্ন দিয়ে, একটা ফাইল লিখলাম ওপনঅফিসে। তার স্ক্রিনশট দেখুন। লক্ষ্য করুন: কোনও গন্ডগোলের নিচেই ও কিছু করছে না। একমাত্র, ফুলস্টপের দুপাশেই কোনও স্পেস না-থাকায়, ও সেটাকে কোনও ভুল বানানের শব্দ বলে ভাবছে। সুস্মিত তো তাহলে ঠিকই বলেছিল। তাহলে? আমার ওই স্মৃতি আসছে কোথা থেকে? এতটা বুড়ো কি আমি সত্যিই হয়েছি? তখন মনে হল, ২০০০ নাগাদ ফ্লসে চলে আসার আগে বেশ কিছু বছর তো আমি এমএস-উইন্ডোজে কাজ করেছি, এমএস-ওয়ার্ডে। সেই স্মৃতি নয় তো? সেই লেখালেখির প্রথম বছরগুলোয় যখন এইসব গোলমাল করতাম।

তাক থেকে ধুলো ঝেড়ে সিডি বার করে, উইন্ডোজ ইনস্টল করলাম, আর আমার সেই পুরোনো ওয়ার্ড-৯৭, যা আমি বেশ কিছুদিন একটানা ব্যবহার করেছি। এবং, মজাটা এই যে, তাতে দেখলাম, আমি ঠিকই বলেছি। স্ক্রিনশট দেখুন।

এবং শুধু এটুকুই না, ওয়ার্ডে স্পেলচেক চালালে, গ্রামারসহ, সে পরিস্কার প্রতিটি ত্রুটিকে চিহ্নিত করছে। ন্যূনতম কিছু নিয়মকানুনও বলে দিচ্ছে। আর ওওও-তে তো আগেই বললাম, শুধু, there.So এটাকে একটা ভুল বানানের শব্দ বলছে, এবং এর কিছু বিকল্প হাজির করছে। তাহলে কি গ্রামারচেক আলাদা করে চালাতে হবে, ওওও-তে? হেল্পে গেলাম, এবং, সেখানে ঘোষিত, ওয়ার্ড যাকে স্পেলচেক এবং গ্রামার বলে ডাকে, এখানে তাকেই স্পেলচেক বলে ডাকা হয়। তাহলে? ঢুকলাম স্পেলচেকের অপশানে, এবং আমার এই এক দশকের বেশি ওয়ার্ডপ্রসেসর ব্যবহারের যতটুকু অভিজ্ঞতা, তাতে কিছু খুঁজেও পেলাম না, যাতে এই কাজটা করানো যায়।

তখনই একটা বাড়তি মজা মাথায় এল: আমি এই ওয়ার্ডটা কিনেছিলাম ‘৯৭-এ। আর ওওওটা এই সেদিন নামানো, ২০০৭-এ। ঠিক এক দশক হয়ে গেল।

আমাদের অগ্রগতির হার ঠিক আছে তো, সঙ্কর্ষণ? অবশ্য তোকে জিগেশ করেই বা কী হবে? বরং, ওপনঅফিসের বিদেশী কাপ্তানদের আমি তো চিনিনা, এশীয় মস্তানদেরই জিগেশ করা যাক, সায়মিন্দু, রুণা, জামিলদের? কী রে, সব ঠিকঠাক চলছে তো? কোনও পেটব্যথা, গা বমিবমি করছে?

ওয়ার্ডের অন্য কাজকর্মের কথা তো ছেড়েই দিলাম। প্রোজেক্ট গুটেনবার্গ থেকে জিপ করা টেক্সট নামিয়ে, গোটাটায় ভাঙা লাইনগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন করে, প্যারাগ্রাফ ভাঙাগুলোকে রেখে, সমস্ত কোটকে স্মার্ট কোট করে, কোনও একটা সেরিফ ফন্টে, আমি ব্যবহার করতাম টাইমস, করে দেওয়ার একটা ম্যাক্রো ছিল। গোটাটা সে করে দিত। সেরকম কোনও ম্যাক্রো ওওও‌-তে লেখাও যাবে না, স্ট্রেট কোটকে স্মার্ট কোট করার অপশান দেওয়ার পরেও, রিপ্লেস অল করলেও, সেটা করেনা ওওও, প্রতিটিকে হাতে করে বদলাতে হয়।

সুস্মিতের মাস্টারমশাইরা অল্পেই খুশি, চাকরি এবং বাকরি দুইই যখন চলে যাচ্ছে, সাক্ষর হওয়ার আর দরকার কী? আমাদেরও সেই অল্প লইয়া থাকার অসুখ ধরে যাচ্ছে না তো?

(কী সঙ্কর্ষণ বাবু? ঢিট ফর ঢ্যাট? আবার যদি লিখছি না কেন, তাই নিয়ে খোঁচাস, এরকম বিচ্ছিরি বিচ্ছিরি সব লেখা লিখব।)

Filed under: floss — dd @ 7:42 am

October 24, 2007

রাইজার ফাইলসিস্টেম ও বাইনারি চালানোর অধিকার

নেটখাতার এই পাতাটার নাম দেওয়াই যেত এমপ্লেয়ার কেলেঙ্কারি। এমপ্লেয়ারের সঙ্গে এত কেলেঙ্কারি জড়িত। কোনও ডিস্ট্রোর এমপ্লেয়ারের ভার্শন অমুক, কোনওটার তমুক, কিন্তু সর্বাধুনিক ভার্শনটা তো চাইই চাই। নইলে জীবনের আর অর্থ কী, অাধুনিকতম এমপ্লেয়ার ব্যতিরেকে। এবং তার সবচেয়ে প্রশস্ত পথ তো কম্পাইল করে নেওয়া। আমার যতদূর মনে পড়ছে, ৯৯ বা ২০০০-এ, ম্যানড্রেক ছয় বা সাতে, আমার কম্পাইল করার হাতেখড়ি এই এমপ্লেয়ার দিয়েই। তথাগত আমায় বুদ্ধি দিয়েছিল, সিনেমা দেখো, আর তোমার এমপ্লেয়ার নেই? আমি উইনডোজে কোনওদিন সিনেমা দেখিওনি। একটা ৪৮৬ মেশিন ছিল, তাতে উইনডোজ ৯৫ চলত, আর ওয়ার্ড ৯৭, যখন আমি লিনাক্সে এলাম। প্রথমবার ./configure && make && make install চালিয়ে সে যে কী ফূর্তি। যেন আমি রিচার্ড স্টলম্যান কি এরিক রেমন্ডস হয়েই গেলাম, আর ঠেহায় কেডা। আর কম্পাইল করেছিলাম জিটাইপিস্ট। তারপর থেকে যত যত মেশিনে আমি যখনই ইনস্টল করেছি লিনাক্স, কম মেশিনে তো করিনি, শ দুয়েক তো হবে বলেই মনে হয়, এমপ্লেয়ার আর জিটাইপিস্ট দিতামই। পারতপক্ষে কম্পাইল করে। সুজেতে অবশ্য জিটাইপিস্ট কম্পাইল করতে খুব ঝঞ্ঝাট হত সেসময়। কার্সেস লাইব্রেরিগুলো থাকত অন্য জায়গায়। যেদিন, নিজে নিজেই খুঁজে পেয়েছিলাম তার উপায়টা, জিটাইপিস্টের টারবলটা খুলে তার ভিতর .c ফাইলগুলো খুলে সেগুলোয় curses.h আর ncurses.h ফাইলদুটোর ঠিকানাটাই বদলে দেওয়া, সত্যি, কী যে আনন্দ পেয়েছিলাম। যখন লোককে দেখি কম্পিউটার রয়েছে, ইনস্টল করার মত এত এত লিনাক্স রয়েছে, অথচ এই এত সহজলভ্য আনন্দটা পায়না, বেশ খারাপ লাগে।

যাইহোক, যে কথা বলছিলাম, ফেডোরায় এমপ্লেয়ার ইনস্টল করা। এরকম ঘুরপথ কুপথ হবেই। একে মাস্টারি করি, তিন পুরুষের মাস্টার, তায় বয়স তো মেঘে মেঘে কম হলনা, এখন আর সময়ের হিসাবগুলো বছরে না, দশকে করি।

তা, ফেডোরায় এমপ্লেয়ার কম্পাইল করার আগে থেকেই আমার ব্যথাটা শুরু। আমার গোটা সিস্টেমটা যে ঘেঁটে গেছিল, নেটখাতায় আগেই যেটা লিখেছি, একইসঙ্গে লিভনা আর ফ্রেশআরপিএম থেকে প্রিকম্পাইল্ড বাইনারি ইনস্টল করে, সেটা ঘটেছিল এই এমপ্লেয়ার থেকেই। তাই, সিস্টেমকে প্রথম খোপে ফেরত আনার পর, এবার ঠিক করলাম, কম্পাইল করে নেব। আগেই দেখেছিলাম, ফেডোরা মেইলিং লিস্টে একটা আলোচনা-সূত্র চলছে এই ‘mplayer without libmp3lame support’ নিয়ে। সেখানে সমস্যাটা হল একজন জানিয়েছিল, তার মেনকোডার ‘-oac mp3lame’ এই অপশানটা নিচ্ছে না। সেখান থেকে আলোচনার শুরু।

আমি কম্পাইল করতে গিয়ে যে সমস্যাটার সামনে পড়লাম, সেটা অত্যন্ত বিদঘুটে। এরকম কোনও কিছু আমি কখনো দেখিনি। আমি একদম সাম্প্রতিক এমপ্লেয়ার মানে MPlayer-1.0rc2.tar.bz2 এবং তার সঙ্গে কোডেকের জন্যে essential-20071007.tar.bz2 নামিয়ে নিলাম। এদের আনটার করে, বিজিপটু খুলে যা যা করার সেগুলো করে, যেই আনটার করা MPlayer-1.0rc2 ডিরেক্টরিতে গিয়ে ./configure চালালাম, পেলাম একটা বিচিত্র মেসেজ, পারমিশন ডিনায়েড। এর মানে কী? আমি মেলিং লিস্টের ওই আলোনাতেও জানালাম।

প্রথম সমস্যা এই যে, ./configure চলছিল না। আমার সন্দেহ হল, এই configure স্ক্রিপ্টটায় কোন গড়বড় নেই তো? পেলাম না কিছু। আবার sh এবং bash ঠিক জায়গায় ঠিক আকারেই আছে। আমার বোধবুদ্ধিতে তাদের ঠিকঠাকই লাগছিল। তখন ’sh ./configure’ করে চালালাম, এবং চলল। লে গঙ্গা, এর মানে কী? ঠিক চলল তো? বোঝার জন্যে config.h পড়ে দেখলাম, হ্যাঁ, ঠিকই আছে। আগেই লেম কম্পাইল করে নিয়েছি, সেই ঠিক লেম, lame.h, ঠিক জায়গাতেই পেয়েছে।

এবার make চালানোর কথা। চালালাম, এবং, চলল না। এবং তার সঙ্গে একটা বিচিত্র ত্রুটিজ্ঞাপন। পুরোটাই তুলে দিই। আমি এটা রুট হয়ে চালাচ্ছিলাম। কারণ, এর আগে ইউজার হয়ে চালাতে পারিনি। কী জানি, কী থেকে আসছে সমস্যাটা এই জন্যে এই গোটা সময়টাই আমি রুট হয়ে রয়েছি।

[root@mamdo MPlayer-1.0rc2]# make
./version.sh `cc -dumpversion`
/bin/sh: ./version.sh: Permission denied
make: *** [version.h] Error 126
[root@mamdo MPlayer-1.0rc2]#

অর্থাৎ, version.h ফাইলটা চালাতে পারছে না, অনুমতি নেই বলে। ওই ডিরেক্টরিতেই version.h ফাইলটা খুলে দেখলাম, বস্তুটা কী।

#!/bin/sh
echo “#define VERSION \”1.0rc2-$1\”" > version.h
echo “#define MP_TITLE \”MPlayer 1.0rc2-$1 (C) 2000-2007 MPlayer Team\”"

মানে, ভার্শনের স্ট্রিংটা তুলে নেওয়ার জন্যে। বেশ, আগের একই কায়দায়, সরাসরি version.sh যখন চলছে না, আমি আগের কায়দাতেই, ’sh ./version.sh’ করে চালালাম। তৈরী হয়ে গেল version.h নামের হেডার। এরপর আবার যেই make চালালাম, সে চলল। চলেই থেমে গেল। এবার ত্রুটিসংবাদটা এরকম:

/bin/sh: ./codec-cfg: Permission denied
make: *** [codecs.conf.h] Error 126

অর্থাৎ, আবার সেই স্ক্রিপ্ট চালানোর সমস্যা। এবার স্ক্রিপ্টটা হল codec-cfg যা কোডেকগুলো কনফিগার করার কথা। আমি মেইলিং লিস্টে এই পুরোটা জানালাম, এবার আমার কী করার এই প্রশ্ন নিয়ে।

Is this some peculiarity of this version of ’sh’ in F7, or, some silly error I am doing?

এই মেলটা দুপুরে পাঠিয়ে আমি কলেজ চলে গেছিলাম। তখন সঙ্কর্ষণকেও পাঠিয়েছিলাম। ওর মাথায় এসেছিল এটা সেলিনাক্সের সমস্যা হতে পারে, কিন্তু তার আগেই আমি সেলিনাক্স অফ করে নিয়েছি, ওই একই সম্ভাবনা মাথায় আসায়। কলেজ থেকে ফিরতে আমার রাত দশটা বেজে যায়। ফিরে এসে দেখলাম, একটা মেল এসেছে ওই চিঠির উত্তরে, যাতে কার্ল লারসেন বলে একজন লিখেছে, কেন, VLC ইনস্টল করে নিলেই তো হয়, এমপ্লেয়ারে সমস্যা যখন। কী জঘণ্য। অনেকটা সেই পাউরুটি না খেয়ে কেক খাওয়ার সমাধানের মত। তার উত্তর দিলাম, রাত্তির ১০:৪৫-এ, কিন্তু VLC দিয়ে এনকোড করা যায় কি? আর তার চেয়েও বড় কথা, এটা হচ্ছে না কেন তাও তো ছাই বোঝা যাচ্ছে না।

১০:৫৮-তে মরিয়াট এম বলে একজন একটা মেল করল, আমি ঠিক ভাবে আনটার করেছি কিনা, ফাইলগুলো কোরাপ্ট ছিল কিনা, পার্টিশনটায় কোনও ভৌত গন্ডগোল আছে কিনা, আমি fsck করে দেখে নিয়েছি কিনা, ইত্যাদি। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, এগুলো কারণ নয়। তবু, বলার পর, আমি নতুন করে একবার এমপ্লেয়ার সাইট থেকে ফাইলদুটো নামালাম। fsck করে দেখেও নিলাম একবার পার্টিশনটা। সেটা ফের লিস্টে জানালাম।

অনেক চিঠি আসতে শুরু করল। রাত ১১:৪০-এ কেভিন জে কামিংস জানতে চাইল, configure স্ক্রিপ্টটায় একজিকিউটেবল বিট ‘x’ লাগানো আছে কিনা, অর্থাৎ চালানোর রাইট দেওয়া আছে কিনা। আমি একটু আহত হয়েই উত্তর দিলাম, ১১:৫৫-এ, আমি কি সেটা পরখ না-করেই অন্যদের জ্বালাচ্ছি। ওই চিঠির শেষের দিকে কেভিন কামিংস লিখেছিল, কিছু একটা কারণে স্ক্রিপ্ট বা বাইনারিগুলোর চালানোর অনুমতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মজার কথা, এর মধ্যেই ঠিক ইঙ্গিতটা ছিল, যেটা আমি পাইনি, কিন্তু অ্যান্ডি গ্রিন পেয়েছিল।

এরপর, এই আলোচনার চিঠি দেওয়া নেওয়া চলল রাত ০১:৩৯ অব্দি। মূলতঃ অ্যান্ডি গ্রিনের সহযোগিতায় যেটা শেষ অব্দি আবিষ্কার করা গেল সেটা বেশ মজার। এই ঘটনাটা ঘটছিল একটা রাইজার ফাইলসিস্টেম পার্টিশনে (এর মধ্যে এমন চিঠিও এসেছিল, রাইজার রাখার দরকার কী বাপু, রাইজার যার বানানো সেই রাইজার তো এখন জেলে, ইত্যাদি, ইত্যাদি)। সেই পার্টিশনের মাউন্ট যাতে ইউজার হিসাবে আমি করতে পারি, তাই আমার /etc/fstab ফাইলে আমি অপশন দিয়ে রাখি, ‘noatime,noauto,user’, noatime টা হল দ্রুত মাউন্ট করে নেওয়ার জন্যে, অ্যাকসেস টাইম দিয়ে ছাই অত কী হবে একটা একা-একলা মেশিনে, noauto যাতে সিস্টেম নিজে মাউন্ট না-করে, ও তো ডিফল্টে করবে, রুট হয়ে ছাড়া কাজ করা যাবেনা কিছু, আর user হল যাতে একজন ব্যবহারকারী পার্টিশনটা মাউন্ট করতে পারে। কিন্তু কেলেঙ্কারিটা হচ্ছে এখানেই, user মাইন্টেবল হলেই সিস্টেম তার সঙ্গে একটা লেজুড় যোগ করে দিচ্ছে: noexec, এতে কোন চালনীয় মানে একজিকিউটেবল ফাইলই আর চালানো যাচ্ছে না।

এবার, এই ঘটনাটা আমি নেটখাতায় তুললাম কেন? এইমাত্র গুণে দেখলাম, সেদিন একাত্তরখানা চিঠি জুড়ে ওই আলোচনায় শুধু যে আমি অনেককিছু শিখেছিলাম, নতুন করে দেখেছিলাম তাই না, আর একবার ওই সম্প্রদায়ের, কমিউনিটির বোধটা আমার মধ্যে তৈরী হচ্ছিল। আমি মেলিং লিস্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেল লিখেছিলাম:

I learned a lot in the last two hours. Thanks to the list.

ঠিক এটাই বলার আমার, ফেডোরায় এসে, ফেডোরার বেশ সিরিয়াস এই মেলিং লিস্টে, অনেকদিন বাদে আবার বেশ গ্নু-লিনাক্সীর অনুভূতি জাগছে।

Filed under: floss — dd @ 10:53 am

ফেডোরায় আসার পরপরই

নেটখাতায় আগের লেখায় লিখেছিলাম, উবুন্টু থেকে ফেডোরা সাতে আসার পরপরই দুচারটে এমন জিনিস ঘটল যাতে গ্নু-লিনাক্স আবহাওয়ার অনুভূতিটা বেশ জোরদার হয়ে উঠল। তার দুটো ঘটনা আজ লিখি।

প্রথম ঘটল আমার নিজের দোষে ফেডোরা সাত সিস্টেমটা ঘেঁটে ফেলা। পরে দেখেছিলাম, নেটে বারবার নানা জনের আলোচনায় এটা এসেছে, রিপোজিটরি যোগ করার সময় লিভনা আর ফ্রেশআরপিএম এই দুটোকে কখনো এক সঙ্গে করতে নেই। দুটোতেই থাকে ফেডোরায় ইনস্টল করার প্যাকেজ। কিন্তু দুই জায়গায় সম্পূর্ণ দুই ভাবে এটা করা হয়। পিছনে ডিপেন্ডেন্সিগুলোর, যে ফাইলগুলোর উপর নির্ভর করে এই দুই জায়গার দুই ধরনের প্যাকেজ। তাই দুটো থেকে আসা প্যাকেজ একই সঙ্গে একই সিস্টেমে ইনস্টল করলে গোটাটাই গন্ডগোল পাকিয়ে যায়।

নেটে এই পুনঃপুনঃ উচ্চারিত সাবধানবাণী আমার নজর এড়িয়ে গেছিল। আমি দুটো থেকেই একসঙ্গে প্যাকেজ ইনস্টল করেছিলাম, সিস্টেম ইনস্টল করার পরপরই। তাতে যা ঘটল তা এই যে, এর চেয়ে বিকট কোনও অবস্থা আমি কদাচ দেখিনি। এক্স-উইনডোজের তো গল্পই নেই। কীরকম ভুতুড়ে ধূসর ধূসর আবছায়াপরায়ণ সমস্ত জিনিষ দেখতে পাচ্ছিলাম, startx করে ঢুকলেই। পুরো ধূ ধূ ধূসর। মাউস ক্লিক করলে সেখানে রুট উইন্ডোর গায়ে সব চৌকো চৌকো দাগ দাগ আসছে। আর কেহ নাই, কিছু নাই গো।

তাই এক্স-এর গল্প তো দূর-অস্ত, এমনকি বহু ইউজার বাইনারিই আমি চালাতে পারছিলাম না। /bin বা /usr/bin এর বাইনারিগুলোরও লাইব্রেরি, পাথ, সব ঘেঁটে একাকার। এমন যাচ্ছেতাই অবস্থা যার বিবরণ দেওয়া যায় না। কাঁদো কাঁদো মুখে কলেজ চলে গেলাম। সেদিন আবার ক্লাসটেস্ট ছিল ছাত্রদের। এখন এক সার্কাস চালু হয়েছে, সাড়ে চারশো ছেলের ক্লাসটেস্ট। যাই হোক সে অন্য গল্প।

পরের দিন রবিবার ছিল। আমি সকাল থেকে পড়লাম সিস্টেম নিয়ে। নেটে ঢোকা যাচ্ছিল। রাউটার হিসাবে ওটা কনফিগার করা। এবার ifconfig দিয়ে আইপি আর নেটমাস্ক দিয়ে, তারপর route কে ডিফল্ট গেটওয়ে যোগ করে দিলেই নেটসংযোগ হয়ে যাচ্ছিল। এটাই ছিল বাঁচোয়া। ইয়াম চালানো যাবে। কিন্তু আমি তো ইয়াম কিছুই জানিনা। শেষ বছর দুয়েক উবুন্টুতে কাজ করেছি apt-get দিয়ে, তার আগে সুজেতে সরাসরি ইয়াস্ট থেকে। এমনকি সিস্টেমে ম্যানুয়াল পেজও ঠিকমত পড়া যাচ্ছে না। নেট থেকেই যতটুকু পারি ইয়াম শিখলাম। জিনোম নতুন করে ইনস্টল করতে হবে, তার আগে সব কেঁচে গণ্ডূষ করতে হবে। এইসময়ে এই পার্টিশনে ইউজার ডেটা কিছুই নেই। চাইলেই রি-ইনস্টল করতে পারতাম, কিন্তু চাইছিলাম না। আসলে একটু পরখ করে নিতেও চাইছিলাম। কেজো অবস্থায় ফেরত আসা যায় কিনা। উবুন্টুতে এই অভিজ্ঞতাটা আমার বেশ খারাপ ছিল। উবুন্টু ইউজারের জন্যে সবকিছুই খুব সহজলভ্য করে রাখে। কিন্তু সহজলভ্য করার এই প্রক্রিয়াটা একেবারেই সহজ নয়। আগেই লিখেছি, ওই অস্বচ্ছতা। গ্নু-লিনাক্সে সবকিছুই করতে পারার কথা কনফিগারেশন ফাইল পড়ে আর ম্যানুয়াল পড়ে। সেরকমটা আমি বেশ কয়েকবার উবুন্টুতে পারিনি। অবশ্য এটা ঠিক, উবুন্টুর কাঠামো মানে ডেবিয়ানের কাঠামো, লিনাক্সের সার্বিক কাঠামোর বাইরে ডেবিয়ানের কাঠামো আলাদা করে কিছু জানিনা বললেও কম বলা হয়। কিন্তু লিনাক্সের কাঠামো সম্পর্কে একটা ধারণা থাকলেই ম্যানুয়াল পড়ে পড়ে কাজ তো করতে পারার কথা। সেটাই ফেডোরায় পারি কিনা আমি দেখতে চাইছিলাম।

এবং মজার কথা, সত্যিই সেটা হল। আমি সিস্টেমে ফেরত যেতে পারলাম।

রবিবার, সকাল থেকে গুঁতিয়ে গুঁতিয়ে, রাত নটা নাগাদ আমি আবার একটা কড়াই থেকে সদ্য তোলা মুচমুচে ভাজার মত ঝরঝরে একপিস ফেডোরা পেয়ে গেলাম। তার মধ্যে কম বেদনা যায়নি। যেমন নেট থেকে পাচ্ছিলাম, yum groupinstall gnome কাজ করার কথা। কিন্তু করেনি। এইটায় যেটা করেছিল সেটা হল yum install gnome-desktop, এই রকম প্রতি পদে পদে। যাই হোক, দাঁড়াল তো শেষ অব্দি। এবং সবচেয়ে বড় কথা আলাদা করে ফেডোরার ঘাঁতঘোঁত কিছু না-জেনেই। যেটা আমি নেটখাতার আগের লেখাটাতেও বলতে চেয়েছিলাম। একটা সরল স্বচ্ছতা। এটা উবুন্টু অভিজ্ঞতায় আমি পাচ্ছিলাম না। কিন্তু ফেডোরায় আবার সেটা ফেরত এলাম।

আমার কম্পিউটারের সঙ্গে কোন নির্মাণ-সংযোগ নেই, না যন্ত্রপাতির, না সফটওয়ারের। আমি লেখাপড়া করতাম কম্পিউটারে। তারপর একসময়, প্রাথমিক ভাবে ভাইরাসভীতি থেকে মুক্তির চেষ্টাতেই লিনাক্সে আসা। আসার পর, সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতি সংক্রান্ত ভাবনাগুলো তো অনেক পরের, প্রথম যে উত্তেজনাটা হয়েছিল, সেটা হল বুঝতে পারার। উইনডোজ করার সময়ে, আমার মনে আছে, আমি উইনডোজ করারও আগে, ডস ৬ থেকে শুরু করেছিলাম, তার ওয়ার্ড-প্রসেসর ছিল ওয়ার্ডস্টার। মজা পেয়েছিলাম এর বেশ কিছু দিন বাদে, রোমান পোলানস্কির ‘বিটার মুন’ সিনেমায় ডসের ওয়ার্ডস্টারে লেখককে লিখতে দেখে। তারপর উইন্ডোজ এল, ৩.১ আমি খুব ব্যবহার করেছি। যখন win কমান্ড দিয়ে উইনডোজে ঢুকতাম। এই কনসোল প্রম্পট অনেকদিন অব্দি ধরে রেখেছিলাম, উইনডোজ নাইন্টিফাইভ অব্দি, msdos.sys ফাইল এডিট করে, bootgui=0 করে দিয়ে। যাইহোক, যা বলছিলাম, অনেক তখন বোঝার চেষ্টা করেছি। কী দুর্দান্ত আবিষ্কার মনে হয়েছিল তখন যেদিন দেখেছিলাম, যে কোনও ডস কমান্ডের পরে ‘/?’ লাগিয়ে এন্টার মারলে সেই কমান্ডটাকে জানা যায়। কিন্তু কিছু দূরের পরে আর কিছুতেই এগোতে পারতাম না, যে বস্তুটা নিয়ে সারাদিন কাজ করছি তার প্রায় গোটাটাই প্রহেলিকা বলে মনে হত।

গ্নু-লিনাক্সে আসার পর সবচেয়ে উত্তেজক লেগেছিল এই চাইলে শিখতে পারার স্বাধীনতা। চাইলে আর পরিশ্রম করলে। অর্থাৎ, ওটা আর প্রহেলিকা নয়, চাইলে এবং খাটলে জানা যায়, বোঝা যায়। এবং একটু পরিশ্রম করার পরই যে কোনও লিনাক্স ওএসে একটা ন্যূনতম ঢুকতে পারা। এইটা যেন ভেঙে যাচ্ছিল ফের উবুন্টুতে এসে।

কেন হঠাৎ /etc/inittab ফাইলটা হাওয়া করে দেওয়া হল? এবং তার চেয়েও বড় কথা তার যথাযোগ্য ডকুমেন্টেশন সিস্টেমের মধ্যে তো নেই-ই, নেটে বেশ কিছুটা খুঁজেও আমি পাইনি। আগেই যেমন বলেছি, আমার মেশিনে প্রায় সবসময়ই আমার একের বেশি লিনাক্স রাখতে হয়। বিশেষতঃ জিএলটির পর থেকে। এতে কোনওদিন কোনও সমস্যা হত না। কিন্তু উবুন্টুর সঙ্গে কোনও কিছু রাখা, উবুন্টুর গ্রাব দিয়ে, আমি কখনো পারিনি। গ্রাব কেন, গ্রাব আসার আগে, যখন লিলো ছিল, তখন যেটা করতাম, যে সিস্টেম থেকে lilo.conf ফাইলটা দেখছি, তার নিজের কারনেল ইমেজটা হুবহু তার পথের ঠিকানায়, আর অন্য লিনাক্সের কারনেল ইমেজটা দিয়ে দিতে হত এই ওএসের ভিতর ওটা যেখানে মাউন্ট হয়ে আছে সেই পথ ঠিকানায়। তারপর মাউন্ট করা অবস্থায় একবার lilo চালিয়ে দেওয়া। তারপর গ্রাব এসে তো আরও সহজ হয়ে গেল। কোনও মাউন্ট টাউন্টের বালাই নেই। শুধু কাঁচা পার্টিশনটা দিয়ে দাও।

উবুন্টুতে এসে দেখলাম, এটা করা যায় না। আমি কখনো পারিনি। এবং এটা পারতে এতটা ঝঞ্ঝাট নিতে হবেই বা কেন? উবুন্টু যে হ্যাশ সংখ্যাটা ব্যবহার করে menu.lst ফাইলে, সেটার কারণেই হোক, বা অন্য কোনও কারণে, উবুন্টুর মধ্যে থেকে অন্য লিনাক্স রাখতে মহা ঝামেলা। শেষ অব্দি আমি যেটা করতাম তা হল, পরের লিনাক্সটা থেকে আবার গ্রাব ইনস্টল করে, তার menu.lst ফাইলে উবুন্টুর menu.lst ফাইল থেকে প্রয়োজনীয় অংশটা কপি পেস্ট করা। এই এখনো তো, আমার একটা পার্টিশনে উবুন্টু আছে, সেটার গ্রাবে আমি ফেডোরা রেখে বুট করতে পারিনি। শেষে ফেডোরার গ্রাব থেকে উবুন্টু যোগ করে দিয়েছি।

উবুন্টু ওই হ্যাশ সংখ্যাগুলো দিয়ে লেখে তার /etc/fstab ফাইলও। তাই অন্য যে কোনও লিনাক্সের অভ্যস্ততা দিয়ে সেটাকে ব্যবহার করা ভয়ানক শক্ত। শুধু উবুন্টু ব্যবহার করা খুব সহজ, কিন্তু উবুন্টুর সঙ্গে নিজের মর্জি মত একচুল কিছু চাইলেও সেটা মহা শক্ত। এটা কেন হবে? এটা গোটা গ্নু-লিনাক্স সংস্কৃতির থেকে ভীষণ আলাদা লাগে, উবুন্টুর পরিভাষায় সেই এক নম্বর পোকার কথা মনে পড়ে।

ফেডোরায় আসার পরই অন্য অভিজ্ঞতাটা রাইজারএফএস এবং সেখানে অধিকারের সমস্যা। কিন্তু আজ আর নয়, ওটা নেটখাতার পরের কোনও পাতায় লেখা যাবে।

Filed under: floss — dd @ 12:59 am

October 20, 2007

উবুন্টু থেকে ফেডোরা

বাংলায় গ্নু-লিনাক্স নিয়ে বইটা লেখার সময় ভারি কটূকাটব্য করেছিলাম রেডহ্যাট নিয়ে। কেউ যদি স্লো-মোশনে কম্পিউটার করতে ভালবাসেন, নিশ্চিন্তে রেডহ্যাট করতে পারেন, ইত্যাদি। আরও তখন ইএক্সটিথ্রি সত্যিই ভারি শ্লথ ছিল। আর অন্য কোনও ফাইলসিস্টেম, রাইজার বা এক্সএফএস ইত্যাদি করতে হলে, সে ছিল মহা হ্যাপা। কন্ট্রোল অল্ট এফ ওয়ান/টু ইত্যাদি কিছু একটা করে অন্য ভারচুয়াল কনসোলে যাও, সেখানে mkfs.reiser করে একটা পার্টিশন রাইজার করো, তারপর ফিরে যাও কন্ট্রোল অল্ট এফ সেভেন করে ফিরে যাও চলমান অ্যানাকোন্ডায়, সেটাকে ওয়ান স্টেপ ব্যাক, ওয়ান স্টেপ ফরোয়ার্ড করো, তবে দেখা যাবে ডিস্কড্রুইড তার নিরীহ ছাগল ছাগল ইন্টারফেসে দেখাচ্ছে, রাইজার পার্টিশন। এবং, এর পরেও, যখন এটাকে কোনও সিস্টেম পার্টিশন হিসাবে কোনও মাউন্টপয়েন্ট দেওয়া হবে, সঙ্গে সঙ্গে চিল্লাবে, “এই পার্টিশনের ডেটা অবিকল রেখে দেওয়া হচ্ছে, এসব কিন্তু ধর্মে সইবে না”, ইত্যাদি।

এবং সত্যিই, আমি রেডহ্যাটে কোনওদিনই কাজ করিনি। সবচেয়ে বেশিদিন একটানা করেছি সুজে ৮.২-তে। তিন বছর। এছাড়া কখনো একটু আধটু ম্যানড্রেক, একটু আধটু স্ল্যাকওয়ার, স্ল্যাকওয়ারটা বড় ভাল লেগেছিল। কিন্তু, যতদূর মনে পড়ছে, বাংলা লেখাটেখা নিয়ে কী সব ঝঞ্ঝাট হয়েছিল। মনে আছে, ওই সময়েই আমার বাংলা লেখার জন্যে সৈকৎ ওই জাভা জেআরই দিয়ে একটা বেড়ে সফটওয়ার নামিয়েছিল। পরে যা কাজে লাগল গুরুচণ্ডালী বানানোয়। বাংলায় ওর চেয়ে ভালো লেখার যন্ত্রপাতি দেখলাম ওপনঅফিসের পরই। আরও ঝট করে পিডিএফ করা যায়। আমি ওর জেআরই ছেড়ে ওপনঅফিস ব্যবহার করায় সৈকৎ আমায় আওয়াজ দিয়েছিল, “বাংলায় প্রথম ইউনিকোডে লেখক হতে চাইছ?”

আমার তো কম্পিউটার বা ওএস এসব বড় কথা নয়, একমাত্র দরকার লেখা, বাংলায় এবং ইংরিজিতে। তার সঙ্গে এই “ব্রহ্মাণ্ডের সরেসতম মিডিয়াপ্লেয়ার” এমপ্লেয়ার দিয়ে দুচারখানি সিনেমা দেখা, গান শোনা, এবং গান বা সিনেমা কোথাও পেলেই এনকোড করে নেওয়া এভিআই বা এমপিথ্রিতে। এই নেটখাতাতেই ঘোষণা করা রইল, আমি কোনও সিনেমা বা গান বেআইনি-ভাবে শুনিনা। আইনসম্মত ভাবে ক্রয়িত তো হতেই হবে, উপরন্তু উপরে, মানে সিডি ডিভিডির উপরে গঙ্গাজল-তুলসীপাতা লেগে আছে কিনা দেখে নিই, এমনকি সেটা ঠাকুরদেবতার সিনিমা হলেও।

তাই ওএস নিয়ে আমার বড় মাথাব্যথা নেই। আর সঙ্কর্ষণ যেমন বলেছিল, গেঞ্জি বদলানোর সঙ্গে বা বিকেলে মেয়েবন্ধুর সঙ্গে দেখা না-হলে, সেই বেদনায়, একবার ওএস বদলে নাও, ওসব আমার নেই। (অমন বয়েসই বা কই আর, হায়? গেঞ্জি বদলানোর কথা বলছি না, গেঞ্জি আমি এখনো বদলাই, এই বয়সেও।)

কিন্তু, এবারে বদলাতে অনেকটা বাধ্য হলাম। প্রায় দুবছর হল উবুন্টু ব্যবহার করছিলাম। সবাই জানে, খুবই সুবিধেজনক উবুন্টু। মাঝেমাঝে একটু বড্ড সুবিধেজনক লাগতে পারে, এতটাই সুবিধে। যেমন, আমার ল্যাপটপের সঙ্গে ক্রসওভার কেবল দিয়ে ডেস্কটপটা লাগানো ছিল। ল্যাপটপের ল্যানটায় আইপি আগে থেকেই দেওয়া ছিল। ওটাতেও উবুন্টু। ডেস্কটপের ল্যানটায় আইপি দিয়েছি। অন্য নানা কনফিগারেশন বা নিজের-মত করে-নেওয়ার কাজ করছি, এমন সময় মনে হল, দেখি তো ল্যাপটপ থেকে ব্রাউজার চালালে কী হয়। ভেবে দেখুন, তখনো ডেস্কটপে কোনও আইপি-মাস্কারেড চলছে না, ল্যাপটপে কোনও গেটওয়ে দেওয়া নেই। শুধু ডেস্কটপের সঙ্গে লাগানো ব্রডব্যান্ড বিএসএনএল মোডেম রাউটার হিসাবে কনফিগার করা, তাই ডেস্কটপটা নেটে সংযুক্ত। মজার কথা কী বলুন তো, আমি তো চমকেই ছিলাম, যাদের যাদের বলেছি, তারাও চমকেছে, ল্যাপটপের ফায়ারফক্স নেটে ঢুকে গেল। তথাগতকে গল্পটা বলে বললাম, বল, শালা, এ প্রায় উইনডোজ কিনা। ও বলল, “না, সরি, এ উইনডোজও পারবে না।”

কিন্তু এই নির্বিঘ্ন অনাবিলতার একটা তলার দিকও আছে। সেটা হল অস্বচ্ছতা। এইবার এই শালা কানেকশনের কনফিগারেশনটা আপনি বদলাতে চান। কী ভাবে বদলাবেন? আপনি তো জানেনই না কী করে কানেকটেড হল। আপনাকে প্রথমে /etc ফোল্ডারের গভীর গোপন গাণিতিক সব ফাইল খুঁড়ে খুঁড়ে বার করতে হবে, কী করে, কী করে, আজ ছিল ডাল খালি, কাল ফুলে যায় ভরে, বল্ দেখি তুই মালী, হয় সে কেমন করে?

তো? ফের আমি এই হালুয়ার মধ্যে দিয়ে আঙুল চালানোর চেয়েও অনাবিল উবুন্টু ছেড়ে ফেডোরার গেঞ্জি পরলাম কেন? সেটার একমাত্র কারণ বাংলা। (হায়, এই প্রদেশপ্রেম কে জানল?) প্রায় এগারো বছর ধরে মার্ক্সের ভ্যালুতত্ত্ব নিয়ে কিছু প্রবন্ধ আমি লিখছি, লিখে চলেছি। তার মধ্যে গোটা কয়েক গত তিন বছর ধরে ওপনঅফিসে লিখছি। সুজে, স্ল্যাকওয়ার, উবুন্টু, নানা ওএসের নানা সংস্করণ আমার মেশিনে এসেছে গেছে। সেই অনুযায়ী নানা সিস্টেম থেকে ওপনঅফিসের বিবিধ সংস্করণ দিয়ে তাদের উপর লিখেছি আমি। আমি বাংলা সিরিয়াস লেখালেখিতে একটা ফন্টই ব্যবহার করি এখনও, সেটা হল সোলেইমান লিপি। সেই সোলেমান লিপিরও ভার্শন বদলেছে। এই সব মিলিয়েই চলছিল। হঠাৎ করে, এক পুণ্য প্রভাতে দেখলাম, সেই সমস্ত পুরোনো ফাইলগুলো উবুন্টুতে ঘেঁটে ঘন্ট হয়ে গেছে। তার সমীকরণ সংখ্যাগুলো হিব্রু ভাষায় খুব কড়া কড়া গালাগাল হয়ে গেছে। পাতার সংখ্যাও ঘেঁটে গেছে। বদলে গেছে আরও বহু কিছু।

এরপর? এরপর কত কিছু করলাম। উবুন্টুতে জানালাম, ওপনঅফিসে জানালাম, বেংগালিনাক্সে জানালাম, বাংলা ওপনঅফিস পত্রপ্রবাহে (যাকে বাংলায় বলে মেইলিং লিস্ট) জানালাম, এমনকি আইলাগ কলকাতা আর দিল্লিতেও জানালাম। কেউ বলে ওএস বদলা, কেউ বলে ওপনঅফিসের ভার্শন বদলা, কেউ ব্যাঙ্গ করে বলল এ প্যাঙ্গোর সমস্যা (সায়মিন্দু জানিয়েছিল, প্যাঙ্গো নয়, প্যাঙ্গো নয়, ওপনঅফিস ব্যবহার করে আইবিএম-এর আইসিইউ), কেউ বোধহয় বলল, সাবধানে না তুললে কামড়েও দিতে পারে। কিন্তু কিছুই হল না। আমি একে একে মূল ডিস্ট্রোর জায়গায় তিনটে আলাদা আলাদা ওপনঅফিস সংস্করণ চেষ্টা করে দেখলাম। কিছুতেই কিছু হল না। এইসময়, এই ফাইলগুলো আমি যাকে পেরেছি তাকে পাঠিয়েছি, যদি কিছু করতে পারে, বিল গেটসকেও পাঠিয়ে থাকতে পারি।

সেই ফাইলের একটা নিজের ফেডোরা সাতের ওপনঅফিস দিয়ে খুলে তার স্ক্রিনশট তুলে আমায় আর সায়মিন্দুকে সিসি করে পাঠাল সঙ্কর্ষণ। ফাইল একদম ঠিকই আছে।

দ্বিতীয় আর একটা লিনাক্স ওএস কখনো প্রয়োজন পড়লে ইনস্টল করা যায় যাতে,
জিএলটির জন্যে সেই প্রয়োজন মাঝেমাঝেই পড়ে, আমি একটা পার্টিশন ফাঁকাই রাখি। সেখানে ইনস্টল করলাম ফেডোরা সাত। সেখানে কতকগুলো মজার ঘটনা ঘটল প্রথমেই। সেটা পরে কখনো লিখব। কিন্তু আমার এই উবুন্টু থেকে ফেডোরায় যাওয়ার ব্যাপারটায় একটা বিষয় আমার মাথায় কাজ করছে। সেটা মূলতঃ উবুন্টুর দৃষ্টিভঙ্গী নিয়। উবুন্টু যাকে পহেলা-পোকা বলে ডাকছে, বাগ ওয়ান, মানে মাইক্রোসফটের বাজার শাসন, সেই পোকার চোখে চোখ রেখে এগোচ্ছে উবুন্টু। সেটা উবুন্টুকেই ক্রমে দ্বিতীয় পোকা করে দেবে না তো? রাজাকে আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, ডুয়েল লড়লাম, দ্বন্দ্বযুদ্ধ। যুদ্ধে যদি আমি হারি, তাহলে হব রাজার পরাজিত উত্তরাধিকারী, যদি জিতি তো জয়ী উত্তরাধিকারী। অর্থাৎ, জয় বা পরাজয়, উত্তরাধিকারটা থাকছেই।

আমি বলতে চাইছি এটাই যে, আমি শুরু করছি কোথা থেকে, ‘না’ থেকে, না, ‘হ্যাঁ’ থেকে? যদি কাউকে নাকচ করা দিয়ে শুরু করি, তাহলে তাকে আমি শত্রুরূপে ভজনা করছি। সে-ময় হয়ে আছি, যদিও একটা নঞর্থক রকমে। ঘৃণা যেমন ভালোবাসার চেয়েও বেশি করে অবিস্মরণীয় করে রাখে ঘৃণার পাত্রকে। তার চেয়ে আমি ভুলে যাই না কেন এই নাম্বার গেম, কে এক আর কে দুই। আমি আমার মত, আমি কিছু জিনিস ঠিক বলে মনে করি, যেমন ন্যায়পরায়ণতা, আমি কিছু জিনিস ভালোবাসি, যেমন স্বাধীনতা। জানার স্বাধীনতা, জ্ঞানের স্বাধীনতা, গবেষণার স্বাধীনতা। আমি সেই অনুযায়ী কাজ করে চলি। কে এক কে দুই জেনে আমি কী করব?

এমন তো হতেই পারে, এক নম্বর পোকার বিকল্প পোকা হওয়ার বাসনাতেই, আরো তাড়াতাড়ি আরো ঝটপট ডিস্ট্রো প্রকাশ করার দায় এসে গেছিল উবুন্টুর? তাই, এমনকি ত্রুটি জানার পরেও সেই সফটওয়্যার রয়েই গেছিল। রয়ে গেছিল স্ক্যানার না-ব্যবহার করতে পারা। রয়ে গেছিল বাংলা না-ব্যবহার করতে পারা। তার চেয়ে জরুরি নয় কি, একটা লিনাক্স সিস্টেমের সবচেয়ে জোরের জায়গা যেটা, সে শক্তিশালী, সে ভারসাম্যে আছে, স্থির, ব্যবহারকারী ভুল করলেই সে ভুল করে, নয়তো নয়, এই জায়গাটাকে আরো ভালো করে নিয়ে আসা? ফেডোরায় আসার পরপরই তেমন একটা জিনিস ঘটল, যাতে সেই গ্নু-লিনাক্স ব্যবহারের জোরালো জায়গাটা ফের মনে এল, উবুন্টুতে যেটা প্রায়ই ভুলতে বসেছিলাম। ওই অস্বচ্ছতার কথা তো আগেই লিখেছি। যাকগে, সেটা পরে কখনো লিখব।

Filed under: floss — dd @ 11:29 pm

বাংলা লেখার ব্লগ, নেটখাতা

অ্যাদ্দিনে সায়মিন্দু বানাল একপিস ব্লগ, র‍্যান্ডম-ইংকে। আমার একমাত্র দাবি ছিল এমন একখানা ব্লগ যেখানে আমি বাংলায় লিখতে পারব। নেটখাতা নামটা তো, এখনও, ভালই লাগছে। দেখা যাক।

আর, পুরোনো ব্লগস্পটের ব্লগে যে এন্ট্রিগুলো ছিল সেগুলোও নিয়ে এলাম এখানে। পুরোনো সেগুলো, ইংরিজিতে। তা হোক। এখানে চাইলে বাংলাতেও লিখব, ইংরিজিতেও লিখব।

কত লিখব কে জানে: সায়মিন্দুকে দিয়ে ব্লগ তো বানালাম। যাকগে, বানিয়ে রাখা ভাল।

Filed under: Uncategorized — dd @ 7:06 am

March 18, 2007

Letters Scattered in Blood

That was the time of plain old pen and paper. I was writing from the morning, a job i had to complete. Sahaj came to me quite a few times and returned frustrated, that i cannot participate in his games. Finally i came to a blank, moments that are so usual while writing, everything is there in your head, but the link between the letters and those thoughts has somehow lost. All this time Sahaj was coming there and going away, full of fear of what his mother told him, “Don’t disturb pisha”. He called me ‘pisha’, a minor variation of ‘pishemashai’ in Bangla, the spouse of the ‘pishi’, the sister of his father. And that ‘pisha’ too did sound so queer. Firstly, because his mother, from Nepal by birth, spoke Bangla with an altered accent, and even that Bangla too Sahaj was yet to learn, he was only three or something. He spoke a working mixture of soft-uttered Bangla and English words, quite often in incomplete sentences. I was sitting there, with my tired and absent eyes hanging over the window grill, and the thoughts around the Jibananda Novel ‘Malyaban’, which i was writing down in the form of an essay, still looming there in the air, while he came near me, without my notice. And all of a sudden i got startled when he said, “Pisha, vowr ands vaar daahty”, with a soft ‘d’ and soft ‘t’, meaning to say, obviously, “Pisha, your hands are dirty”. With a startled look still in my eyes, i saw, there were so many ink-stains over my palm and fingers, obviously some problem with the pen that i did not notice earlier. Around two decades have gone by, almost the length of time that I have not seen Sahaj any more. I miss him. A void, silent, speechless, still full of so many reverberations that strike my skull from inside my head, starts infiltrating me, at times when i remember him, when i hear someone talking about Bhubaneshwar, the place where he lived with his parents, when the last time i heard about him. I know of that feeling and i take care, i start thinking something else, that mechanically and that stupidly, and somehow, it works. Sahaj goes away from my head, with his parents, with his ‘pishi’, the son i had with his ‘pishi’, every one, every context, every moment, when i start thinking, say, how many cigarettes are left there in the packet, or, is it a long time i have not gone to the loo. Just that image remains. A chubby three year old face, with eyes like marble balls immersed in rich oil, looking, or better, glinting hither and thither, and fixing questioningly towards me, and a voice so pungently acidly cute, sputtering out, “Pisha, vowr ands vaar daahty”. ‘Sahaj’ means simple and innocent, and yes, so ’sahaj’ he was. But all these years, this question with that image returns to me again and again. Yes, Sahaj, my hands are dirty. And what can be more true than that for any writer from Calcutta, after Singur and Nandigram. Whatever i write, it is full of blood, and dirt. Whatever. Anything that i write is sheer dirt, and blood.

Filed under: Uncategorized — dd @ 10:19 pm

October 12, 2005

TJ2: Nutan (continued)

( … continued … )

Now that so much of background info about Nutan is given, it is better to start from nowhere: that is now and here. Better to start from the other end: presenting the present. The present the transient the cloud that you can never pin down, the sunbeam that you can never hold in your hand, that part common with Julie Andrews Maria in Sound of Music, but the other part is, ‘Present, this present/ Presenting and representing/ The ugliest songs of ours/ Relentlessly’. It was a very weak and feeble attempt, that is an attempt possible with my ability, in translating Jibanananda, the greatest Bangla writer ever. This ‘relentlessly’ part is extremely important, this is a dynamic situation. The present is always past, every moment it is happening, by the very criterion of happening it is becoming past, it is a process that you cannot describe, because every description is static, like the past. The description by virtue of getting described, that is, thought or spoken or written, is becoming dead and static, and how a dead and static thing can describe a live process that realizes in its ever-changing dynamics?

But, this Tridib’s Journal Entry 2, TJ2, is not about present-description-past. It is about Nutan.

Nutan. The sister Tridib could have but did not. Making something real doubly proves that it is not real by the action of making. This is not just playing with words. What is making? It is forcing squeezing pressuring some of the infinite variables of the reality to behave in some particular way or structure. That is, making some loose ends meet there, that would not meet in the real case, and make some closed ends unmeet that have already met in reality. But this intervention in the history of the variables itself becomes a history. And you are always conscious that you are enacting a play, you have to go on playing it, that itself changes the play.

This was the mindset that remained there in Tridib’s head towards Nutan. Maybe that was a bit caused by his laziness too. Making something happen means a lot of labor and labor is always a negative commodity, one likes it if only it is someone else’s. And making any emotional event true involves a lot of labor. Like falling in love. At times Tridib thinks, middle age is here, and old age is knocking at the door, it is better now to fall in love once again, for some time to come it will make so many things so magically dynamic again. But, the very next moment, the fear of that astronomical amount of labor looms large. That much transport, that much sudden change in plans, that much remaining ready on your toes that any moment she needs you, emotionally, telephonically, physically, letterically, you have to be there. Maybe the same fear worked in the case of Nutan too. Getting into a relationship is so much of a responsibility, and if you are not responsible, it seems that you are a bloody cheater.

So, as everything happens around Tridib, being a big brother to Nutan was there, and simultaneously, not there. There, in his head, and not there, in reality. Years were going by. Within this time, he knew that Nutan was ill, got her news from his friend. That it was a peculiar kind of illness. A continuing low fever, and a lot of cough and other things, a cough that is making her vomit once or twice every day, but no diagnosis at all. Twice she was hospitalized. Once taken to some renowned hospital in some other state, that the disease can get diagnosed, with absolutely no results. Then, slowly, the fever went away. After some two years, without any known reason, exactly as it came. And this was the time when Tridib’s personal life was breaking down. He was trying to re-generate himself on his personal plane, taking resort to his writings, political economy, literature, philosophy, computers and every thing. He was writing a lot. Writing is always easier than reading, when you are disturbed. One year, two years went by. Tridib married again. His old political party, all this time in power, bit him a lot, as these things happen, actually the party does not bite, but some people there, and after all, they are the party. They abused him on lack of politics, lack of morality, lack of everything, and, maybe to generate and demonstrate a lack of entirely new order, ransacked his house and threw his books into the nearby pond: lack of books: was it very poignant in terms of surplus meaning?

All this time, Tridib was wanting it so hard to go to Nutan, at least once or twice. Every year, after the Pujo Festivals in the autumn, in fact as if marking the end point to the Pujo, comes the bhaai-phnota. And every year, without fail, he suffered on that day. That he did not go there. Going there, to take the phnota, that a sister gives on the forehead of a brother, would be playing too much of a second fiddle to a badly constructed mythology, but, not going there had its own price too.

And then, exactly fourteen years after the magic dawn in their Purulia home, Tridib went to Nutan’s place. And not on a bhaai-phnota. Within these fourteen years, thrice Tridib went to his friend’s place, and all three of them very short-time visits, the last two of them Tridib was accompanied with his wife, one just after the marriage, and Nutan with his husband and child had once come to Tridib’s place too. All of them very social and low profile meets, never the emotional variable flowing very high. And for a few years now the contacts with this old friend, husband of Nutan, were alive once again, that he was coming back to political economy research and all. Then came this meet with Nutan, fourteen years away from that first meet with the newly-married balika-badhu. And this was after her long disease, and Tridib was tense within himself, what he is going to see of her, on the way to their place.

It was a week-day, and it was noon. The scorching sun and the humid air. Temperature around 40 degree Centigrade, and humidity around hundred percent, as it happens in Calcutta summer on a June day. The house, the room, with all the windows closed to keep away the heat, actually did give Tridib a sense of comfort and relief, and sitting on the bed, usually middle income households in Bangla speaking people do not have a drawing room in that sense, and, in a way, Tridib was a family, so he sat on the bed of the bedroom, almost the only room of the apartment, the other one being a passage before the kitchen turned into a dining place, a bed that he had to almost grope for, it was so dark inside, after coming in from the burning sun. And the cot, made of old teak, from the marriage, the bed-sheet on the bed, the metal cupboard, the dresser beside the bed, everything being of a dark color, the whitewashed wall getting morose from the dirt of time, the light was not adequate by any standard. The young boy was sleeping on one side of the bed.

Nutan was already gasping for breath, from this action of opening the door and getting surprised and pleased at seeing Tridib on the door. Not that Tridib was hungry, but it was not very normal for her not to ask him if he was hungry from the long journey, she actually told Tridib to take some rest. “You better lie down a bit here, he has left some papers and journals and things for you, better take a look after taking some rest. You have all the way from there, in this heat.” Nothing normal was happening here, at least with respect to a Bangla household. Could Nutan see it, or couldn’t she, that Tridib’s shirt was absolutely wet from sweat, and if she could, it should be the first reaction of her to tell Tridib to take off the shirt, but she said nothing, together with not asking him if he is hungry or not, and actually asking nothing at all, and just telling him to lie down there, it was all so abnormal. Tridib got the answer a bit later. And it was one answer so very painful.

More to cope up with these things that he could not understand, Tridib lied down on the bed, like that, with that wet shirt on him. Though it was extremely soothing now, with this darkness and cool within the room, the fan running at full speed. And within moments Nutan lied down there too, beside him, between the sleeping son and Tridib. Tridib was actually a bit uneasy, not that any sexual context was ever present there between him and Nutan, still it was not a run of things that happens every day in your life. And the apprehension of what his friend could think if he knew of this was making him a bit alert too. And by that time Nutan had taken a pillow below her head and her eyes were already closed. Tridib’s eyes, now a bit habituated in this darkness, started discerning things. And because they were now lying, the window was very near to their heads, and the slits and joins of the wooden planks of the window were letting in microscopic amounts of light.

Nutan spoke again, and this time due to the vicinity, Nutan’s head was now not more than thirty centimeters from his head, Tridib was hearing it clearly over the drone of the fan, and some occasional fluttering of the Goddess Kali on the calendar hanging on the wall, Tridib now got the ring of the voice. It was a stoned voice, as if drugged. Was she that ill?

“If you smoke, the ash-tray is on the window. Just a bit back I had my medicine. I don’t get anything very clearly after this medicine. You get some rest.”

Oh, then, this is the thing, Her illness, her medicine, Tridib thought. And as if to fulfill her wish, and maybe he was longing for a cigarette too, he raised his body a bit on his left elbow and opened the window just a bit that it lets out the smoke, most probably it would be harmful for her. And the moment he hid it, he wished he had not, but it was too late. The soft light from the partially opened window, it opened towards a verandah that had a big bushy tree outside, made Nutan’s face visible to his eyes. Was it Nutan’s face at all. She was around twenty on that Purulia morning, and it seemed she has aged at least twice those years, and not just that, all very miniscule crows’ feet now filled her whole cheek and forehead and all, the hairline receded so far back, it was not the face he knew. With his elbow now on the window sill, and his head rested on it Tridib looked on and on: Nutan, the same Nutan, really? All of a sudden, the cruel irony of the name shot him back.

Without knowing it fully well that he was doing it, Tridib put his right palm on Nutan’s forehead, and started playing his fingers through it. And so matte and lifeless and dry they seemed. Why? He could not understand that. Understood later, on the way back.

Nutan, sleepily, and spontaneously, as it seemed, moved her head a bit, and made the smallest of motion of her head, in reply and acceptance of Tridib’s hand on her head. Did she do it really? Or, she was already asleep, it was just one physical movement that people do while asleep, without knowing that they were doing it? Whatever it maybe, Tridib went on doing it. And all these years, all the images of Nutan and everything around her, in retrospect were running through his head. Can living people become this dead so fast, without actually dying?

In the afternoon, on his way back, the mystery of those dry and matte hair cropped up in Tridib’s head. When she got awake in the afternoon, one of her very first reactions was a surprise, full of pain, by looking at Tridib, “You are absolutely the same, how it happened: you did not change a bit?”

At times Tridib is reminded of this by some of his associates, he did age really far less than many other of his friends. When someone says of it, on the next morning, after having his bath, while backbrushing his hair, Tridib looks at the image a bit more attentively, is it true? It seems, this is the face he is seeing there for so many years, something like fifteen seconds every morning, that is the time it takes to comb the hair, once. Obviously, in his childhood he had no beard and moustache, but he can’t remember it any more. At times these comments gives him a silent pleasure and satisfaction: see, that is the plus point of workouts and exercises he does every morning for the last two decades. But, this is the first time he felt a guilt. Why he did not age? Why? Why this difference in aging between people, a difference that makes Nutan go into a futile attempt of hiding her age, by applying dye and all that made her hair so listless and lack-luster and dry? This occurred to Tridib that very moment, going by a barber’s shop. This barber was giving the evening time incense and good-luck lamp to his shop. Tridib told him to crop the hair and beard as small as he can. Tridib wanted to do something but he did not know what.

For the last two or three years, the explosive energy in his friend’s work and a changed way of behaving with people first gave him the hunch, and then, later, Tridib discovered, his friend has found a woman of his own. This woman is good, Tridib saw her too, once or twice, good-natured, intelligent, communicative. It is OK, Tridib is no judge of morality or something. Tridib’s friend was never engrossed in Nutan. Tridib knew it all along, even the night before that magic dawn the conversation they had between two old friends. It was more a marriage of responsibility than a marriage of love. Nutan does not know of it too, as his friend told Tridib. Though Tridib has a fair amount of doubt. Can a wife not-know sufficiently well? Life is not a film after all.

And this aged woman, this wreckage of a person that was supposed to become a woman, full of life and vigor and everything, but that never really happened, why she continues to miss everything? Why? This barber was doing his job very inefficiently. Every move in the scissor was giving a sparking pain in his scalp, but at this moment Tridib loved the pain, he wanted it to be harder still.

Filed under: Uncategorized — dd @ 8:12 pm
Next Page »