নেটখাতা

January 29, 2009

গুরুচণ্ডালী, শব্দজব্দ এবং নাকউঁচুপনা

গুরুচণ্ডালী ওয়েবসাইটে , এই ব্লগের ‘ব্যান্ডপার্টি, নাইটরাইডার এবং গৌরী ধর্মপাল’ লেখাটা ‘বুলবুলভাজা’ বিভাগে ছাপা হয়েছিল। সেখানে নানা জনে নানা প্রতিক্রিয়া লিখেছিল লেখাটা নিয়ে। খুবই মজার সেটা, যে যার যা খুশি মন্তব্য করা। ওই লেখাটা নিয়ে টইপত্তরে আলোচনা চলছিল, অনেক অনেক মন্তব্য। কয়েকটা বিষয় সেখানে এমন এসেছিল যা আমাকে খুব নাড়া দিয়েছিল। তার মধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা হল, মধ্যমগ্রামের শব্দজব্দ নিয়ে এই লেখাটার মধ্যে একটা উপ্ত নাকউঁচুপনার সম্ভাবনা। সেটা আমার অবশ্যই ঠিক লাগেনি, কিন্তু সেই সমালোচনাটা যে সম্পূর্ণ অকারণ তাও নয়, লেখাটায় এমন কিছু জিনিস এসেছিল যা একত্র হয়ে এই সম্ভাবনাটা তুলে আনে বটে। এমন একটা পাঠ হতে পারে যে, ওটা সে অর্থে ‘প্রাকৃত’ সংস্কৃতির প্রতি একটা বিরূপতা, যার উপাদান লারেলাপ্পা গান, সহগ নাচ, বা বাজি ইত্যাদি। তাও, কেন আমার সমালোচনাটা সঠিক লাগেনি তারও কিছু কারণ আছে। বিষয়টা আমাকে বেশ ভাবিয়েছিল। কিন্তু কিছুতেই সময় বার করতে পারছিলাম না, আজকেও লিখতে হবে বেশ সংক্ষেপে।

১। মধ্যমগ্রামের নাম কেন মধ্যম, এটা একটা রসিকতা বলে মনে আসে, শব্দজব্দের নিরিখে এর একমাত্র নাম হওয়া উচিত উচ্চগ্রাম। সবসময়েই উচ্চগ্রাম শব্দে উচ্চকিত এই গ্রাম, আমরা গ্রামের মানুষেরা তাতে জব্দ হয়ে থাকি। সকাল থেকে রাত, মাঝে মাঝে রাতান্তর অব্দি দিবারাত্রির এই শাব্দিকতা। সকাল থেকে শুরু হয়, হয় রক্তদান নয় ক্রীড়াউন্নয়ণ, নিদেন রাজনীতির মাইক। এটা চলে স্টেশন থেকে চৌমাথা। এর অন্তর্ভুক্ত হলনা এরপর প্রায়ই দোকানে দোকানে এবং দোকানের জবানিতে বিজ্ঞাপনের মাইক। খুব কম সময়ই চলে যখন স্টেশন থেকে চৌমাথা অব্দি ডিভাইডরের ল্যাম্পপোস্টে ল্যাম্পপোস্টে চোঙার টোপরসজ্জা খোলা হয়।

২। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় ফাংশন। কে ফাংশন করে, কেন করে, তারা কী খায়, তারা কজন, এসব প্রশ্ন আজকাল আর মাথায়ও আসে না। ফাংশন হয়, ফাংশনই হল উচ্চগ্রামের একমাত্র ভবিতব্য। এই বিষয়ে এই ব্লগে আরও আলোচনা আছে, পড়ে দেখতে পারেন। এগুলো আগে রাতশেষের আগে থামত না। খুব অদূর অতীতে, মানে ২০০৮ এর ডিসেম্বরে এবং ২০০৯ এর জানুয়ারিতে মাত্র দিন কয়েক ছাড়া কখনোই রাত বারোটা ছাড়ায়নি। এবং এখানে একটা মজা আছে, ডালের মজা তলায় হলে কী হয়, ফাংশনের মজা উপরে। রাস্তার দুপাশে দোকানে ও বাড়িতে আটকা পড়ে যায় শব্দ, প্রায় পাওয়াই যায় না, কিন্তু দোতলার বা তার উপরের তলাগুলোয় এই শব্দের একেবারে হদ্দমুদ্দ হয়ে ওঠে। এবং চারিদিকে প্রচুর পুকুর ছিল একসময়, যেগুলো এখন সবই মাল্টিতলা (গুরুচণ্ডালীর ওই আলোচনা থেকে এই চমৎকার শব্দটা তুলেছি আমি), তার আশ দিয়ে পাশ দিয়ে শব্দ ঘেঁটে গিয়ে, কোন দিক থেকে আসছে সেটা বোঝা খুবই কঠিন হয়। এবং শোনা যাচ্ছে এই কমাটুকুও নাকি পুলিশকে বাদ দিয়ে সরাসরি শব্দদূষণ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে আসছে, তাই কতদিন সেটা চলবে সেটাও বলা খুব কঠিন। আমার বাড়িতে নিয়মিত অনেক ঘন্টা সময় কাটানোর পর অন্তত তিনবার, তিন জায়গার, দক্ষিণেশ্বর, বেহালা এবং শ্যামনগরের তিনজনকে বলতে দেখেছি, মধ্যমগ্রামে কি রোজই ফাংশন হয়, এবং একসঙ্গে কটা ফাংশন হয়?

উপরের এই ১ আর ২ আসলে পরিপ্রেক্ষিৎটা বোঝাতে। এই রকম চলতে চলতে চলতে তিতিবিরক্ত, ব্যথিত, অাতঙ্কিত হতে হতে যা হয়, তখন যা ঘটে, হয়তো আপনার ছানা একটু বাদামের খোসা ঘষল দেওয়ালে, আপনি বদাম করে তাকে একটা কিল মারলেন, আসলে কিলটা মারতে চেয়েছিলেন উচ্চগ্রামের নাগরিকত্বকে। পড়ল গিয়ে তার ঘাড়ে। যেদিন নিয়ে ব্লগের ওই ব্যান্ডপার্টি লেখাটা অনেকটা তাই হয়েছিল। খুব লেখার ও অন্য কাজের চাপ, তার মধ্যে ওই ব্যান্ডপার্টির অসভ্যতা, সব মিলিয়ে ঠিক ওইদিন যে উপাদানগুলি ছিল সেগুলোই চিত্রিত হয়েছিল, সেই উপাদানগুলোর মধ্যে একটা আপাত-প্রাকৃত চরিত্র থাকায় ওই পাঠের সম্ভাবনাটা তৈরী হয়েছিল। কয়েকটা বিষয় পরিস্কার করে ফেলা যাক।

১। যে মানুষগুলোকে খেলার পর, এবং প্রায় যে কোনও কারণেই, পুজো হোক, বিয়ে হোক, পিকনিক হোক, বোম ফাটানোর ক্রিয়ার দেখা যায়, তারা, আর যাই হোক প্রাকৃত নয়। তারা পিপে পিপে মদ, থুড়ি পিপে না হোক বোতল, সাঁটিয়ে থাকে, তাদের ঘরে যথেষ্ট প্রবল আকার ও আওয়াজের টেলিভিশন থাকে, তারা প্রচুর চিপস কেনে, নিজেদের এবং বাচ্চাদের, এবং তারা ফ্ল্যাটের মালিক। এখানে যেগুলি লিখলাম, এছাড়া আরও বহু উপায়ে, পোষাক থেকে বাচ্চার ইস্কুল এবং ইস্কুলের সঙ্গত, এদের অর্থকৌলীন্য স্পষ্ট। এবং আমি যেহেতু আমার নিরিখে ভাবি, এরা অবশ্যই আমার চেয়ে বড়লোক, এবং আমি তো গরিব নই মোটেই। তো? প্রাকৃত কাকে বলে?

২। বিয়েতে রাশিরাশি মানুষের ভূরিভোজে মানে ভুঁড়ি ফাটিয়ে ও বাড়িয়ে ভোজের পরও যারা ব্যান্ডপার্টি দিয়ে, এবং তার সঙ্গে মাইক লাগিয়ে জল আনা ইত্যাদি আচার করাতে পারে তারা প্রাকৃত?

৩। মধ্যমগ্রামের উচ্চগ্রাম শব্দমানচিত্রের একটা ঝলক তো আগেই দিয়েছি। এর পর, এই ফ্ল্যাটগুলি থেকে, সকাল দুপুর সন্ধ্যা গান বাজানো হয়। এবং এর মধ্যে বেশ কিছু সিস্টেম সোনোডাইন তো বটেই, দু-চারটি বোসও আছে। তারপরে আছে কম্পুটারের সঙ্গে লাগানো অ্যালটেক ল্যান্সিং ইত্যাদির সিস্টেম। যার যে কোনওটাই কিনতে গেলে আমাকে অন্য অনেক কিছুতেই গুরুতর মানিয়ে নেওয়ায় আসতে হবে, আর বোস তো আমি চাইলেও কিনতে পারব না। এরা প্রাকৃত?

৪। এরা যে গানগুলি বাজায়, সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে আওয়াজ-বাহার, তার বেশিরভাগটাই আবার, কুসুমে কুসুমে থেকে শুরু করে আমার বেলা যে যায়। মানে রুচির একেবারে চূড়ান্ত। তাতে তাদের বীভৎসতা কমে না। বীভৎসতাটা এই জায়গায় যে অন্যের উপর সেই শব্দ চাপিয়ে দেওয়া হয়। আমি এদের অনেকবার বলেছি, অনেককে। বলে, কই খুব একটা জোরে তো বাজাচ্ছি না। সত্যই এর পরে আমার যুক্তি ফুরিয়ে যায়, তার কাছে তো ওই আওয়াজ কমজোরি লাগে বলেই বোস কিনতে হয়। এবং আগে যখন সামন্ত প্রভুরা জলসাঘরে জমিয়ে বসত, তাদের তো বাড়ি থাকত, বাড়ির বাইরে অনেকটা জমি। লেবেন্সরউম, বোধহয়। এখন, এরা ফ্ল্যাট কেনে, এদের শব্দটা ঘরের চেয়ে বেশি বসবাস করে বাইরে। এইটাই ছিল বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি সস্তা হয়ে যাওয়ার প্রতি আমার আক্ষেপ। তার মানে এদের প্রাকৃতপনার বিপরীতে সামন্তদের প্রতি ভালোবাসা নয়।
৫। এর পরেও একটা নাকউঁচুপনার সম্ভাবনা থাকে। বিদ্যার। যে লেখাটার বিপরীতে এই সংস্কৃতিকে স্থাপন করা হয়েছে, সেটা গৌরী ধর্মপালের লেখা, যে লেখা যথেষ্ট বিদ্যে নাড়িভুঁড়িতে না থাকলে লেখা যায় না। কিন্তু এখানেও বিদ্যাটা গুরুত্বের না। গুরুত্বের হল জীবনের প্রতি দরদটা, বাচ্চাদের প্রতি ভালোবাসাটা। একটা পোকার বাচ্চাকেও ভালোবাসতে শেখানো হয়েছে আশ্চর্য কৌটোর গল্পটায়। আর এর বিপরীতে এই বড় টেলিভিশন দামি ইস্কুলের চিপস আর কোল্ডড্রিংক্স খাওয়া বাচ্চারা কী পায়? এদের বাবারা এদের পয়সা দেয়, এবং বাড়ি ফিরেই মদ খেতে বসে, হাফ প্যান্ট পরে। এবং এদের মায়েরা নতুন বুটিকে জামা কিনে ফিরে সিরিয়াল দেখে। এরা প্রাকৃত তো নয়ই, তার চেয়েও বড় কথা, এরা স্নেহহীন, বাবামা হওয়ার যোগ্যই নয়। যদি যোগ্যতা আসে ভালোবাসা থেকে। গৌরী ধর্মপাল এখানে তাঁর বিদ্যার গৌরবে আসেননি। এসেছেন তার বাচ্চাদের প্রতি ভালোবাসার জোরে।

আমি জানিনা, এর পরেও স্পষ্ট করতে পারলাম কিনা আমি যা বলতে চেয়েছিলাম। তবে ওখানের আলোচকদের ধন্যবাদ, ওঁরা পুরো নাম লেখেন না, তাই নাম করে ধন্যবাদ দিতে পারলাম না, ওঁরা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত একটা পাঠের সম্ভাবনাকে দেখিয়ে দেওয়ায়। যদিও ওরা এটা একটা সাহিত্য হিসাবে পড়েছেন, ব্লগ হিসাবে নয়, গুরুচণ্ডালীতে পোস্ট হওয়ার সময় ব্লগঠিকানাটা উল্লিখিত ছিলনা, তাও সম্ভাবনাটা ছিলই।

January 25, 2009

মধ্যমগ্রামের ফাংশন চলছে চলবে …

আজ ২৪শে জানুয়ারি, রাত ১২:০৮, এখনো মধ্যমগ্রামের গৌরববাহী ফাংশন চলছে। যতদূর সম্ভব সুভাষমেলায়, চৌমাথায়। বা, চৌমাথার কাছাকাছি কোথাও। এত ফ্ল্যাটবাড়ি হয়েছে যে কোনদিক থেকে আওয়াজ আসছে বোঝা যায় না। গাঁক গাঁক করে মাইক বাজছে।

মধ্যমগ্রাম থানার নম্বরে, ২৫৩৮৩২৯৪, ফোন করলাম। যথারীতি একজন সাড়া দিলেন, এবং মাইক বন্ধ করানোর অনুরোধে হ্যাঁ বললেন। কিছুই হল না। আবার করলেও তাই হবে। দু তিনবারের পরে সরল পাপহীন গলায় কেউ বলবেন, দেখুন না, বলছি তো, বন্ধ করছে না। এটাই আমাদের কিছু মানুষের নিয়মিত অভ্যাস।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের wbpcb.gov.in সাইটে যে কোনও সময় করার জন্য টোল-ফ্রি নম্বর দেওয়া আছে, ১৮০০৩৪৫৩৩৯০, তিনবার ফোন করলাম, কেউ ধরলই না।

আশা করা যাক, ঈশ্বর আছেন …

January 23, 2009

বিএসএনএল ডেটাকার্ড ফেডোরা ৮ – সংযোজন ১

আজকে বেশ ফুরফুরে লাগছে, আবার একটু মনকেমনও করছে। ফুরফুরে লাগছে ফেডোরার ডিভাইস খুঁজে পাওয়া এবং সক্রিয় করার যাদুতে। জানিনা শুধু ফেডোরা কেন, অন্য ডিস্ট্রোগুলোতেও এটা ঘটেছে কিনা। বলতে পারব না কারণ অন্য ডিস্ট্রোতে হাত দিইনি অনেকদিন হল, মাস ছয়েক আগে শেষ দুটো মেশিনের একটায় উবুন্টু আর একটায় সুজে ইনস্টল করেছিলাম, তারপর থেকে যা করেছি সব ফেডোরা, নিজের মেশিনে তো বটেই, অন্যদেরটাতেও। কিন্তু এখন যা ঘটছে, আজ বিএসএনএল জিপিআরএসে যা দেখলাম তা রীতিমত চমকে দেওয়ার মত। কিছুদিন আগেকার অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলানোই যায় না। আর মন কেমন করছে সেই জন্যেই। কয়েক বছর আগেও যা একদম রোজকার ছিল, বছর দেড়েক আগে রেখার ভুতে-চুমু-খাওয়া নবাব সিরাজদৌল্লার আমলের ল্যাপটপে শেষ মজাটা হয়েছিল। এক্স উইনডোজ কিছুতেই হবে না, আর তাকে হওয়ানো। ওঃ, সে কী যুদ্ধ।

এক এক বার করে অন্য ভারচুয়াল টার্মিনালে যাও আর একটু করে কনফিগারেশন ফাইল xorg.conf বদলাও, আবার ইনিট পাঁচে যাও, আবার হল না, আবার করো। করতেই থাকো। হরাইজন্টাল ভার্টিকাল রিফ্রেশ রেট একটু একটু করে বদলাও, বদলাও ভিডিও মোড। আর শেষ অব্দি যখন এক্স চলত, তখন ‘চালাও পানসি বেলঘরিয়া’ বলেও মিটত না, একদম টেনিদা ব্রান্ড ‘ডিলাগ্রান্ডি মেফিস্টোফিলিস ইয়াক ইয়াক’ ছাড়া আবেগ মোচনই হত না। আহা সে যে কী জয়ের অনুভূতি। যাকগে, সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো।

আজকে যা হল বিএসএনএল জিপিআরএসে, পরপর দুটো মেশিনে, একটা ফেডোরা ৮, অন্যটা ফেডোরা ১০, সে তো একেবারে ‘পুঁদিচ্চেরি’। আমি এতটাই তর হয়ে গেলাম যে তখ্খুনি ফোন করে প্রথমে প্রণবদা পরে সঞ্চিতাকে লাফ দিয়ে লাফ দিয়ে বোঝালাম কেন ওদের এইমুহূর্তেই, যদি পয়সা না-থাকে তো ঘটিবাটি বেচেও, জিপিআরএস নেওয়া উচিত। সঞ্চিতা বেচারি সাইকেল চালিয়ে খোয়াই দিয়ে যাচ্ছিল কোপাই নদীর দিকে, ওকে মাঠের মধ্যে দাঁড় করিয়ে বুঝিয়েছি। আর পয়সা তো আসলে লাগেই না, যদি পোস্টপেইড না কী ওইটা হয়, মানে পরে যেটায় বিল আসে। আমি সেলফোন তো ছাই বুঝিও না। কিন্তু লোকজনকে জিগেশ করলেই বলে দেবে, বিএসএনএল অল্পদিন হল গোটাটাই ফ্রি করে দিয়েছে, শুধু রেন্টালটা নেয়, ১৯৯ টাকা। আর একটা ফোন অবশ্য কিনতে হয়, কিন্তু সে তো আজকাল সবারই থাকে, আমার মত দু-চারজন সমাজবিরোধী ছাড়া।

প্রথমে আমার একটু ঝঞ্ঝাট হচ্ছিল। কিন্তু সেটা দেখলাম আমি একদমই সেলফোন জানিনা বলে। আমার সেলফোন নিয়ে সাংঘাতিক সব গল্প আছে। মাঝে মায়ের অন্ত্রে অপারেশন হল, বেশ কদিন হাসপাতালে ছিল। রু, মানু আর আমি গিয়ে বুব্বার ফ্ল্যাটে ছিলাম, পিয়ারলেসের কাছেই, ওটা তখন ফাঁকা ছিল। যাওয়ার দিন দেবাশিস আবার আমায় ভালোবেসে ওর সেলফোনটা দিয়ে দিল, বলল, কোনও চিন্তা নেই, একটু দেখলেই বুঝে যাবে। শালা, ভালোবেসে কী বাঁশ যে দিয়েছিল। প্রথম দিন তো হাসপাতালের বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকতে হল অনেকক্ষণ, যখন তখন হারামজাদা বেজে উঠছে। আর হাসপাতালে সেটা বেআইনি। শেষে সিকিউরিটিতে যিনি ছিলেন তাকে সবিনয়ে অনুরোধ করলাম, দাদা এটা একটু অফ করে দেবেন।

তিনি ভুরু কুঁচকে একটু তাকিয়ে জিগেশ করলেন, আপনার ফোন?

আমি বললাম, না, মানে আমারই। তিনি আর না-ঘাঁটিয়ে করেও দিলেন। সে আবার আর এক ল্যাঠা। পরেরদিন সবাই গালি দিল, ফোন অফ করে রেখেছিলে কেন। শেষে মায়ের পাশের বেডে দুর্গাপুরের একটি বাচ্চা ছেলে ছিল, তার পা ভেঙেছিল, সে ভালো করে দেখিয়ে দিল, কী করে অফ অন করে, কী করে ফোন করে। সেখানেও শেষ নয় গল্প, রাতের বেলা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে কী টেপাটেপি করতাম কে জানে। পরে বেশ কিছুদিন দেবাশিসকে অনেকে ফোন করে বা মেল করে জিগেশ করেছে, তুমি অত ব্ল্যাংক এসএমএস পাঠিয়েছ কেন?

যাইহোক, যা দেখলাম, ফোনে একটু টিপলেই পাওয়া যাবে সেটিং। সেটায় ঢুকে যেতে হবে ‘ফোন সেটিং’-এ। সেখানে গিয়ে ‘পিসি এনাবল’ করে দিতে হবে। এটুকু করে নেওয়ার পরে আর কিছু নেই।

এবার জাস্ট ফোনটা লাগাও। একবার দেখে নাও ‘lsusb’ করে বস্তুটা পেল কী না। এবার ওই একই, ডেটাকার্ডের মত, রুট হয়ে

wvdialconf /etc/wvdial.conf

দেখলাম প্রতিটি কিছু হুবহু পেয়ে গেছে, শুধু ফোন নম্বর আর পাসওয়ার্ড লাইনটা বদলাতে হবে। আর সবকিছু ও নিজেই ঠিকঠাক করে নিয়েছে। বদলানো ফাইলটার ‘[Dialer Defaults]‘ অংশটা এখানে তুলে দিলাম, যেখানে ও তুলেছে এই জিপিআরএস ডিটেইলস। আগের অংশটা তো একই আছে, ওই ‘[Dialer BSNL-NIC]‘ অংশটা, যেটা আমরা আগেই বানিয়েছিলাম।

[Dialer Defaults]
Init1 = ATZ
Init2 = ATQ0 V1 E1 S0=0 &C1 &D2 +FCLASS=0
Stupid Mode = 1
Modem Type = USB Modem
ISDN = 0
Phone = *99#
Modem = /dev/ttyACM0
Username = ” ”
Password = ” ”
Baud = 460800

এবার রুট হয়ে ‘wvdial’ চালালাম। কয়েক সেকেন্ড বাদেই পরপর পিলপিল করে লাইনগুলো ফুটে উঠল, যাতে প্রাইমারি ডিএনএস, সেকেন্ডারি ডিএনএস এসমস্ত বলে দিল। তারপর সেখান থেকে সেই ডিএনএস ১ আর ২ এর আইপি দুটো তুলে নতুন করে একটা ‘/etc/resolv.conf’ লিখে দিলাম, তার কায়দাকানুন তো এই ডেটাকার্ড নিয়ে আগের ব্লগ দুটোয় আছেই।

ওই রুট কনসোলে wvdial চলতেই থাকল। আর আরামসে নেট করতে শুরু করলাম। ফেডোরা ১০ আর ৮ দুটোতেই একই আরামে হল। আমি এতটাই মুগ্ধ হয়ে গেলাম যে প্রণবদাকে বোঝাতে শুরু করলাম, দেখো তুমি একটা এসার অ্যাসপায়ার ওয়ান কেনো, দাম কমে এখন চোদ্দ হাজারে গেছে, আমি নিজে ফেডোরা ১০ করে দেব। তুমি ভাবো, ট্রেনে বিশ্বভারতী যেতে যেতে তুমি নেট করতে পারবে। সঞ্চিতাকে বলতে যাচ্ছিলাম, তুই সাইকেলে খোয়াই যেতে যেতে নেট করতে পারবি, তোর তো ল্যাপটপ আছেই, সেটায় ফেডোরা ৮ ও আছে, কিন্তু ততটা আর এগোলাম না, যতই হোক জিপিআরএস লাগিয়ে সেটা ও করবে কী করে, দু হাতই তো সাইকেলের হ্যান্ডেলে। আর হঠাৎ করে হাতের সংখ্যা বেড়ে গেলে লোকে কী বলবে, দিদিমণি বলে কথা।

Filed under: গ্নু-লিনাক্স — dd @ 9:56 pm

January 20, 2009

ব্যান্ডপার্টি, নাইটরাইডার এবং গৌরী ধর্মপাল

গতকাল দুপুরে আমার বৌয়ের সঙ্গে পাড়ায় একটি ব্যান্ডপার্টির খুব অশান্তি হয়, রাতে মানু সেটা আমায় বলল। বিয়ের ব্যান্ডপার্টি। আমাদের পাড়ায় খুব আসে। আমাদের এলাকায় ভূমিসংস্কারের প্রবল সাফল্যে পুকুর প্রায় লুপ্ত প্রজাতি, সবই এখন প্রোমো-তাড়িত বহুতল। আমাদের বাড়ির গায়েই একটা পুকুর এখনো অবশিষ্ট, বিয়ের মরশুমে প্রায়ই নানা বিয়েবাড়ি থেকে এখানে জল নিতে আসে। একসময় যেগুলো ছিল আচার, কিছু বৌ উপচার হাতে আসতেন, শঙ্খ নিয়ে, উলু দিয়ে, এখন তার সঙ্গে আসে ব্যান্ডপার্টি, এবং টুইস্ট নাচ। এই নাচের সঙ্গে এলভিসের কোনও সম্পর্ক নেই, হিন্দি সিনেমার নাচ দেখে, এবং নাইটক্লাবের নাচ টিভিতে দেখে নাচ-না-জানা লোক যখন পৃথুল দেহ কামোদ্দীপক রকমে আন্দোলিত করতে চায়, কিন্তু হয়ে দাঁড়ায় বিকটতা, তাকে বলে টুইস্ট, এতদিন মূলত বিসর্জনে নাচা হত, ধীরে বিয়েতে ও অন্নপ্রাশনে, এরপরে বোধহয় শবযাত্রাতেও হবে। কিছুদিন থেকে আবার ব্যান্ডপার্টির সঙ্গে একটি করে রিক্সাও থাকে, তাতে বসানো থাকে মাইক। এবং ব্যান্ডপার্টি বাজাতে থাকে গত কিছুদিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজা হিন্দি গান, যা সর্বত্র, এমনকি বাড়ির ডোরবেলে, ফোনের রিংটোনে অব্দি বাজানো এবং লোককে শোনানো চলছেই।

এই লোককে শোনানো অংশটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কবে যেন আমাদের চারপাশে একটু একটু করে এটা বেড়ে উঠতে উঠতে একটা অশ্লীল জায়গায় চলে গেছে। ট্রেনের গাদাগাদি ভিড়ে ভয়ানক জোরে ফোন বেজে উঠবে, তারপরে আসবে চীৎকারিত কথোপকথন, এবং ঠিক তার পাশের মানুষ হওয়ার কল্যাণে মাত্র সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি দূরে দাঁড়িয়ে শুনে যেতে হবে। এরপর আছে চৈনিক সেলফোনগুলোর কল্যাণে সস্তায় পুষ্টিকর মনোরঞ্জন, খ্যাঁশখ্যাঁশে আওয়াজে ওই গানগুলো দুতিন বন্ধুর মধ্যে বা এমনকি নিজেই, জোরে জোরে, মানে জনসমক্ষে বাজানো। এবং আবার সেই একই গান। এরপর আছে ফাংশন, এক এক পাড়ার এক একটা ক্লাব। কুকুরে যেমন নিজের এলাকার গাছের গোড়ায় মূত্রত্যাগ করে এলাকা চিহ্নিত করত, এখন গাছ আর কোথায়, এই ক্লাবগুলি ফাংশনরবে এলাকা চিহ্নিত করে। যতদূর আওয়াজ যাচ্ছে ততদূর আমার এলাকা, ভোটের দিন ততদূর অব্দি আমার শাসন। তাই এই গোটা শীতকাল জুড়ে প্রবল ফাংশন চলে। এই ব্লগেই আগে একটা আলোচনাও আছে, সেই ফাংশনের দাপট নিয়ে, বাঘা যেমন ধ্রুপদ শুনে ঘাবড়ানো মুখে গুপিকে বলেছিল, কী দাপট। আর পুলিশ ফুলিশ আমাদের এলাকায় একটা নিতান্তই কুসংস্কার, রীতিমত একটা অলৌকিক উপস্থিতি, পরিস্থিতি আক্ষরিকভাবেই অর্থবহ হওয়ার আগে অব্দি তারা কখনো রূপপরিগ্রহ করেনা। ঠিক এই ডিসেম্বর এবং জানুয়ারিতে এই দাপট অনেকটাই লুপ্তপ্রায়, কারণ শুনলাম পুলিশের এই অলৌকিককতায় বিরক্ত পলিউশন কন্ট্রোলবোর্ড নাকি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করেছে। নিয়ন্ত্রণ মানে কিন্তু রাতটুকু। আগে যেমন ডিসেম্বর জানুয়ারিতে অর্ধেক কি তারও বেশি রাত যেত আমাদের পান খেয়ে আর গান শুনে, এবার রাত বারোটার পরে গেছে মাত্র দিনকয়েক আর সারারাত মাত্র একটিই। ফাংশন মানে আর কিছু না, আবার সেই মাইক এবং আবার সেই একই গান, এবং বীভৎসতর ওই ড্রামবিট।

এবং আরো বীভৎস এই যে বেশিরভাগ মানুষের এটা বীভৎস লাগে না। গতকাল দুপুরে মেয়েকে কোলে নিয়ে ও যখন গিয়ে নিষেধ করে, দুপুরবেলা, এখন বৃদ্ধরা ঘুমোচ্ছে, বাচ্চারা, পাড়ার ভিতর, মাইক বাজাচ্ছেন কেন, তারা বন্ধ তো করেই নি, উপরন্তু নানা বিদ্রূপ করেছে। এবং গোটা পাড়ার মানুষ কেউ আপত্তিও করেনি। ট্রেনে যখন সারাদিনের কাজের পর ক্লান্ত শরীরে ফেরত আসার সময়, মাঝে মাঝে আপত্তি করেছি, সেলফোনে গান বাজানোর বিচিত্রানুষ্ঠানে, কেউ আপত্তি শোনেনি, বরং অসভ্যতা করে বলেছে, কী করব বলুন হেডফোন কেনার পয়সা নেই, অন্য সমস্ত মানুষ চুপ করে থেকেছে। তারা কেউ কেউ আমাকে চেনেনও, মাস্টারমশাই বলেই চেনেন, চুপ করে যান স্যার, ও বলে কোনও লাভ নেই।

কাল রাতে, মেয়ে রু ঘুমিয়ে পড়ার পর, আমরা দুজনে এটা নিয়েই কথা বলছিলাম, কেমন নিঃসঙ্গ একা আর বিষণ্ণ লাগছিল। ওরও আমারও। নিজেকেও বোঝাচ্ছিলাম, ওকেও, ধুর, ও বলে কোনও লাভ নেই, চুপ করে থাকাই শ্রেয়। এবং বোধহয় আমার বাল্য কৈশোর এবং যৌবন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে কেটেছে বলেই এই চুপ করে থাকার পন্থাটা কেমন দমবন্ধকর লাগে। দুজনেরই লাগছিল। আমি আবার ওকে মনে করালাম, ও আবার তো ওই নাইটরাইডার আসছে।

কী সেটা।

আমি বললাম, ওই যে ক্রিকেট। মাঝরাত্তিরে বোম ফাটাবে।

ও। ও বলল। মনে পড়ে গেল ওর। আমাদের বাড়িতে বৃদ্ধ আর বাচ্চা দুইই আছে। তাদের কেঁপে কেঁপে ওঠা, মাঝরাত্তরের বোমের আওয়াজে।

গানের সঙ্গে সঙ্গে এই বোম। বিয়েতে পুজোয় খেলায় সব কিছুতে। খেলা দেখে আনন্দ পেলাম, চমৎকার কথা, তাতে অন্যকে মাঝরাত্তিরে ঘুম থেকে জাগিয়ে বোম ফাটানো কেন, বুঝতে পারিনা। গতবারে আইসিএলে নাইটরাইডার হারা মাত্র একটা উল্লাস হয়েছিল আমার, যাক বোমের অত্যাচার এবার কমবে। সত্যিই কমেছিল, অনেকটাই। তারই সঙ্গে কমেছিল মাঝরাত্তিরে গাবদা গাবদা চেহারার হাফপ্যান্ট পরা লোকের, যারা খেলেনা, শুধু মদ আর চিপস খায়, আর তাদের গাবদাতর বাচ্চারা, যারা খায় কোল্ডড্রিংক্স আর চিপস, এবং সারাদিন লেদিয়ে পড়ে থাকে টিভির সামনে, তাদের ওই বোম ফাটানো, চীৎকার আর নাচানাচি। মনে পড়ছিল, মনটা কেমন শূন্য শূন্য হয়ে যাচ্ছিল। কেন আমারই লাগে, আর কারুর কেন বীভৎস লাগে না, আমিই কি অস্বাভাবিক? এরা আবার যখন নাচে না, তখন জোরে জোরে টিভি চালায়, গান বাজায় সাউন্ডসিস্টেমে। আর ইলেকট্রনিক্সের মত কোন জিনিসই বা সস্তা হয়েছে? খেলা নেই, টিভিতে খেলা দেখা আছে। খেলা গান নাচ সবই টিভি প্রোগ্রাম, লোকগুলো আর তাদের বাচ্চাগুলো শুধু টিভি দেখে আর খায় আর অন্য মানুষকে বিরক্ত করে, অসভ্যতা করে। গোটা সংস্কৃতিটাই হল বোকা অসভ্য প্রতিলিপির। সবকিছুই কপির কপির কপি। বদ্রিলার যেমন লিখেছিল, ট্রান্সপারেন্সি অফ ইভিলে। রাইগর মবিলিস। লোকগুলো টিভি দেখে চলেছে, চিপস খেয়ে চলেছে, ভুঁড়ি বাড়িয়ে চলেছে। কিন্তু আসলে মরে গেছে, সংস্কৃতি বলেই আর কিছু নেই। সবই কপির কপির কপি। গান শোনাও তাই, জীবনচর্য়াও তাই, যৌনতাও তাই, যৌনতা মানেই কিছু অঙ্গভঙ্গী যাকে ইতিমধ্যেই মিডিয়া আমায় যৌনতা বলে চিনিয়ে দিয়েছে। শুধু পুকুর বুজিয়ে বাড়ি কেন, গোটা জীবনটাই এদের প্রোমোতাড়িত। কত কোল্ডড্রিংক্স কত চিপস প্রোমোটেড হবে এই আইসিএল আর নাইটরাইডারের কল্যাণে, খেলা বা শরীর বা জীবন কিছু হোক আর না-হোক।

রাত বাড়ছিল। মানু ক্রমে ওপাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ল। আমি টেবিলল্যাম্প জ্বালিয়ে গত কদিন ধরে রাতে যেটা পড়ছি, টিপিং পয়েন্ট আর ধূর্জটিপ্রসাদ রচনাবলীর একটা খন্ড, মাথার কাছে ছিল, নামিয়ে নিলাম, পড়তে পারলাম না। বেশ কয়েকবার পড়ে গেলাম একই বাক্য, কোনও মানে বুঝছি না। বিছানা থেকে উঠলাম, কম্পিউটারের টেবিলে বসে একটা সিগারেট খেলাম। রু-এর কথা মনে হচ্ছিল, ওকে নিয়ে একটা দুশ্চিন্তাও হয় আমার, বুড়ো বয়সের বাচ্চা, ও সঠিক অর্থে কৈশোর পেতে পেতেই আমার অবসরের দিন চলে আসবে। আর চারপাশে মানুষকে বিরক্ত করার, উত্যক্ত করার এই ব্যান্ডপার্টি আর নাইটরাইডারের সংস্কৃতি। কী মানুষ হবে এতে?

ওর বইগুলো চোখে পড়ল, ছড়ানো রয়েছে, রাতে শুতে যাওয়ার আগেই মানু ওকে পড়ে শোনাচ্ছিল। একটা বই তুললাম, আশ্চর্য কৌটো, লেখক গৌরী ধর্মপাল। মানু এগুলো কিনে এনেছে শিশু সাহিত্য সংসদ থেকে, রু-এর জন্যে।

একটু বাদে, ধীরে, মনটা ক্রমে কৃতজ্ঞতায় ভরে গেল। কী আশ্চর্য বই এই আশ্চর্য কৌটো। কী অদ্ভুত গদ্য, কী আবেগপ্রবণ। আর কী যত্ন করে ছাপা। নিজের মধ্যেই বেশ একটা আরাম এল। সংস্কৃতি তো এটাও। গৌরী ধর্মপাল কে আমি জানিনা, খুব বেশি নামও শুনিনি। ওঁর একটা বই আগেও পড়ছিলাম, সেটাও চমৎকার, ইংলে পিংলে। ও আরও একটা অনবদ্য বই পড়েছিলাম ওনার, বাচ্চাদের জন্য উপনিষদের গল্প। কিন্তু কোনও বইয়েই ওনার বিষয়ে কিছু ছিল না। মানু আর রু পাশে ঘুমিয়ে আছে। ওদের দুজনেরই মাথায় একটু একটু হাত বোলালাম। বেশ লাগছিল। জীবনের সবটাই ওই ব্যান্ডপার্টি আর নাইটরাইডার নয়, এগুলোও তো আছে। গৌরী ধর্মপালের মত লোকেরাও আছে। তাদের এই অসাধারণ রকমের যুদ্ধটাও আছে, ভালো বই লিখে সাংস্কৃতিক ভাবে টিঁকে থাকার যুদ্ধ, এই শুয়োরের মত করে বেঁচে থাকার বিরুদ্ধে।

January 14, 2009

বিএসএনএল ডেটাকার্ড ফেডোরা ৮ — সংযোজন

এক নম্বর কথা, শুধু ফেডোরা ৮ নয়, ফেডোরা ১০-এও এই প্রক্রিয়া কাজ করছে, কিন্তু দুটোতেই একটা ঝঞ্ঝাট করছিল, সেটার কথায় আসছি তিন নম্বর কথায়।

দুই নম্বর কথা, বিএসএনএলের ইঞ্জিনিয়ার নিত্যানন্দ, আমাদের জিএলটির প্রথম মিটিং-এও ছিল ও, ব্লগ পড়ে বলেছিল, আমি ভুল লিখেছি, ওটা ১৪৪ কিলোবিট নয়, ও ঠিকটা পরে মন্তব্য আকারে এখানে লিখে দেবে। কিন্তু এখনো দেয়নি। ছেলেপিলেরা এরকম ভুলে যায়।

তিন নম্বর কথা, কিছু ঝঞ্ঝাট করছিল। নিজে বুঝলাম কাল। ব্রডব্যান্ডে কাল গোলযোগ করছিল, এটা দিয়ে নেটে ঢুকতে গিয়ে। উদারহৃদয় বুড়িয়া-দেবাশিস এটা আমাকে আপাতত দান করে গেছে। সেই ঝঞ্ঝাট সমাধান করার প্রক্রিয়াটা এখানে লিখে রাখা যাক। ওটা যে কাজ করে তার প্রমাণ এই লেখাটা নিজেই, এটা লেখা হচ্ছে ওই ভাবে নেটিত হয়েই।

ঝঞ্ঝাটটা এই যে, ডিভাইস ফাইলটা থাকছিল না। ‘ifup ppp0′ করলে, সিস্টেম জানাচ্ছিল ডিভাইস ফাইল ‘/dev/modem’ নেই। এটা udev-এর ফ্যাঁকড়া। সে ব্যাটা সমস্ত এরকম প্রতীকী ফাইল, সিম্বলিক লিংক উড়িয়ে দেয় সিস্টেম শাটডাউনের সময়। কালকে ঝঞ্ঝাটটা দেখে নিজে একটা ফের বানিয়ে দিলাম, ‘ln -s /dev/ttyUSB0 /dev/modem’ কমান্ড দিয়ে। তারপর হল।

আজ সকালে মনে হল, প্রতিবার এটা দেখে নেওয়া, বড়ই ঝামেলার। আর একই বুটে কেউ একাধিকবার ppp0 চালু বা বন্ধ করতে পারে, তখন তো আবার ডিভাইস ফাইলটা রয়ে যাবে। তাই একটা কুচো ব্যাশস্ক্রিপ্ট বানিয়ে নিলাম।

বানানোর কমান্ডটা হল:

cat > /usr/bin/bsnl-nic

এর পর, কমান্ড প্রম্পট নিজের উঠোন খুলে দিল, মানে ফিরে এল না, তখন পরপর নিচের লাইনগুলো টাইপ করে দিলাম। কিন্তু একটা কথা বলে নেওয়া ভালো, টাইপ করতে ভুল হলে সংশোধনের দরকার হতে পারে, তাই

emacs /usr/bin/bsnl-nic

বা

vim /usr/bin/bsnl-nic

দিয়ে একটা এডিটর খুলে নেওয়াই ভালো। আর এগুলোর কাজকর্ম তেমন জানা না থাকলে, আমি ধরে নিচ্ছে গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেসেই কাজ চলছে, ‘mousepad’ বা ‘gedit’ দিয়েও ‘/usr/bin/bsnl-nic’ ফাইলটা খুলে নেওয়া যেতে পারে। ইঁদুরের পেট টিপেই ফাইল সম্পাদনা করে নেওয়া যাবে।

যে লাইনগুলো পরপর লিখে দিলাম ফাইলে:

#!/bin/bash
[ -f /dev/modem ] && rm -f /dev/modem
ln -s /dev/ttyUSB0 /dev/modem
ifup ppp0

প্রথম লাইনটা তো ব্যাশস্ক্রিপ্টের পৈতে, দেখে যাতে ব্যাশস্ক্রিপ্ট বলে চেনা যায়। দ্বিতীয় লাইনটা দেখে নিচ্ছে, ‘/dev/modem’ নামে কোনও ফাইল সিস্টেমে আছে কিনা, এবং যদি থাকে তবেই সেটাকে সজোরে উড়িয়ে দেবে, কোনও প্রশ্নোত্তর ব্যতিরেকে। তৃতীয় লাইনটা হল ফের একবার ওই নামে একটা প্রতীকী সংযোগ, সিম্বলিক লিংক বানিয়ে দেওয়ার। এবং চতুর্থ লাইনটা হল ‘ppp0′ চালু করার।

এবার একটাই কথা, এটা শুধু রুটের বা সুপারইউজারের চালনীয়, অন্য কেউ যাতে ট্যাঁফোঁ না করতে পারে, তাই রুট হয়েই কমান্ড দিতে হল:

chmod 700 /usr/bin/bsnl-nic

এটা রুট ছাড়া অন্য কেউ কিছু করতে গেলেই সিস্টেম বলে দেবে, ওকে ছুঁয়োনা ছুঁয়োনা ছি। ওই অসূর্যমস্পর্শা ফাইল শুধু রুটের দ্বারাই লিখনীয়, পাঠনীয় এবং চালনীয়। কোনও কৌতূহল হলে ‘man chmod’ পড়ে নেওয়া ভালো। এখন থেকে ’su -’ কমান্ড দিয়ে রুট হয়ে কমান্ড দিতে হবে:

bsnl-nic

তাহলেই ppp0 চালু হয়ে যাবে। কিন্তু ’su’ কমান্ড দিয়ে রুট হলে কিঞ্চিত ব্যথা আছে, ’su -’ হল লগিন শেল, যেন রুট লগিন করল সিস্টেমে, তাই সিস্টেমের সমস্ত সিস্টেম বাইনারি সে তার নিজের পথেই পেয়ে যায়। ’su’ হল ইউজারের গায়ে একটা ‘রাজা’ লেখা কোট চাপিয়ে দেওয়ার মত, সিস্টেম বাইনারি চালাতে গেলে পুরো পথ দিয়ে কমান্ডটা দিতে হয়।

Filed under: গ্নু-লিনাক্স — dd @ 9:55 am

January 3, 2009

বিএসএনএল ডেটাকার্ড ফেডোরা ৮

বুড়িয়ারা জলপাইগুড়ির চা-বাগানে বসে যাতে ইমেল-টিমেল করতে পারে, সেই জন্যে বিএসএনএলের ডেটাকার্ড কিনেছিল। মডেল ইসি ৩২৫, হুয়াওয়েই, ডব্লুএলএল ডেটা কার্ড। এটা ওই ইভিডিও নয় কিন্তু, যাতে ২ মেগাবিটে পাওয়া যায়, এর তথ্যহার ১৪৪ কিলোবিট প্রতি সেকেন্ড। ওরা এত ক্যাবলা যে কেনার আগে খোঁজও নেয়নি যে এটা কলকাতা থেকে কিনে জলপাইগুড়িতে ব্যবহার করতে পারবে না। ওদের ল্যাপটপে ফেডোরা ছিল, ফেডোরা ১০। তার সঙ্গে ইনস্টল করতে গিয়ে দেখলাম সরাসরি নেটওয়ার্ক ম্যানেজার দেখাচ্ছে না, ডেটা কার্ডটা খুঁজে পাচ্ছে, কিন্তু সেটাকে ডিসকানেক্টেড দেখাচ্ছে।

তারপর তো জানা গেল ওটা জলপাইগুড়িতে চলবেই না। আমি ওদের ক্যাবলা বলায় ওরা আমায় বলল, বুদ্ধিটা তুমিই দিয়েছিলে। কে ওদের বোঝায় বুড়ো মানুষদের অমন বলতে নেই, সত্যি হলে তো একদমই বলতে নেই। তা যাই হোক, বুড়িয়া আজ রেখে গেল ডেটা কার্ডটা। আমি সেটা আমার ফেডোরা ৮-এর ল্যাপটপে লাগিয়ে চালু করলাম, আর তাই এই ব্লগ। এই মুহূর্তে সেটা দিয়েই নেট করছি। সায়মিন্দু বলে রেখেছিল, ডেটা কার্ডটা নেটওয়ার্ক ম্যানেজার দিয়ে চালু করতে পারলেই ব্লগে তুলে দিতে। আর সদ্য পরপর দুদিন সায়মিন্দু আমায় পাতন প্রক্রিয়ায় ঘনীভূত কফিবাষ্প দিয়ে তৈরি একটা কফি খাইয়েছে, অমন উমদা জিনিস আমি জীবনে কমই খেয়েছি। এখন ওকে অমান্য করলে হয়ত বলে বসল, দুদিনের চার কাপ কফি পেট থেকে বার করে দাও, কিন্তু সে তো আমার হজম হয়ে গেছে।

প্রথমে বস্তুটা আমার মেশিনের ইউএসবিতে লাগালাম। এবার একটা টার্মিনাল খুলে তাতে রুট হলাম ’su -’ করে, পাসওয়ার্ড দিয়ে। এবার ‘lsusb’ কমান্ড দিয়ে দেখে নিলাম, আমার ওএস বস্তুটাকে খুঁজে পেয়েছে কিনা। তাতে একটা লাইন ছিল:

Bus 004 Device 004: ID 12d1:1001 Huawei Technologies Co., Ltd. E620 USB Modem

অর্থাত, খুঁজে হ্যাজ। খুঁজে যখন পেয়েছে, এবার কর্তব্যকর্ম হল ‘wvdial’ চালু করা। তার জন্যে প্রথমে কনফিগারেশনটা বানাতে হবে। সেই জন্যে কমান্ড দিলাম:

wvdialconf /etc/wvdial.conf

মানে ডব্লুভিডায়াল হারামজাদা যাতে কনফিগারেশন ফাইলটা বানায় /etc ডিরেক্টরিতে ‘wvdial.conf’ নামে। এটাই ওর ডিফল্ট, তাই এর পর থেকে ডব্লুভিডায়াল চালালে ওখান থেকেই পড়বে।

ওখানে একটা কনফিগারেশন ফাইল বানাল ডব্লুভিডায়াল। কিন্তু তাতে কিছু কিছু জিনিস একটু বদলে নিতে হল। একটা হল, Stupid Mode যোগ করা। এছাড়া ফোন নম্বর, ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ডটা বদলানো। বদলে নেওয়ার পর /etc/wvdial.conf ফাইলটা দাঁড়াল এরকম:

[Dialer Defaults]
Init2 = ATQ0 V1 E1 S0=0 &C1 &D2 +FCLASS=0
Modem Type = Analog Modem
Stupid Mode = 1
New PPPD = yes
Phone = #777
ISDN = 0
Username = ???
Init1 = ATZ
Password = ???
Modem = /dev/ttyUSB0
Baud = 460800

শুধু আমি ফাইলটাতে পাসওয়ার্ড আর ইউজারনেমের জন্যে বিএসএনএল থেকে দেওয়া একই তিন অঙ্কের সংখ্যটাকে বদলে এখানে ‘???’ করে দিয়েছি। এবং দেখুন ‘Stupid Mode = 1′ লাইনটাও যোগ করে দিয়েছি। এবং, ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড, আর ফোন নম্বরের লাইনটার গোড়ায় একটা সেমিকোলন (;) ছিল, সেই চিহ্নটা এবং তার পরের স্পেসটাও উড়িয়ে দিয়েছি। মোডেম ডিভাইস দেখুন, /dev/ttyUSB0, ও নিজে থেকেই যোগ করে নিয়েছে।

এবার রুট থেকে কমান্ড দিলাম ‘wvdial’। এতে কিছুক্ষণ ধরে হিজিবিজি চলল, তারপর এক এক করে দুটো নেমসার্ভারের আইপি দেখাল ডব্লুভিডায়াল। কিন্তু তখনো নেটে যোগ করতে পারছে না, আমার এপিফ্যানি ব্রাউজার তো চলছেই না, এমনকি পিংপংও করা যাচ্ছে না। ‘ping google.com’ দিলে দেখাচ্ছে, সার্ভার খুঁজে পাওয়া যায়নি ইত্যাদি কিছু একটা। এটা হওয়ারই কথা, কারণ, ‘resolv.conf’ ফাইলটা বদলানো হয়নি। এমনিতে আমার বিএসএনএল ব্রডব্যান্ড রাউটার দিয়ে নেটে যোগ করে, তাই পুরোনো ফাইলটাই আছে। ওই টার্মিনালে তো ডব্লুভিডায়াল চলছে, আর একটা টার্মিনাল খুললাম, সেখানেও রুট হলাম। ‘cat /etc/resolv.conf’ করে পাওয়া গেল:

; generated by /sbin/dhclient-script
nameserver 192.168.1.1

কারণ আমি ল্যাপটপটার ওয়ারলেস কার্ড দিয়ে নেট করি, ‘dhclient wlan0′ দিয়ে ওয়ারলেস চালু করি। সেটায় রাউটারটার আইপি ১৯২।১৬৮।১।১, সেরকমই দেওয়া resolv.conf ফাইলে। এবার রুট থেকে পুরোনো ফাইলটা ব্যাকআপ করলাম, আর নতুন ফাইল লিখলাম, ‘cat > /etc/resolv.conf’ কমান্ড দিয়ে:

; generated by user for bsnl-nic
nameserver 218.248.240.135 ‌

নেমসার্ভারের এই আইপিটাই দিয়েছিল। এবার পিংপং এবং এপিফ্যানি বেশ করা গেল। অর্থাত, নেট চালু হল। কিন্তু কলির এখনো সন্ধে, সায়মিন্দু বলেছে, নেটওয়ার্ক ম্যানেজার দিয়ে চালাতে হবে। তো চালাও। যে টার্মিনালে ডব্লুভিডায়াল চলছিল, সেটাতে কন্ট্রোল-সি মেরে ডব্লুভিডায়াল বন্ধ করলাম। এবার রুট হয়েই চালালাম, ’system-config-network’, তাতে নেটওয়ার্ক কনফিগারেশন চালু হল। সেখানে ‘New’ ক্লিক করলাম। নতুন সংযোগ কী জাতের হবে সেটা ও জানতে চাইল। ক্লিক করলাম ‘Modem’। এবার ‘Forward’ করে এগিয়ে যাওয়ায় দেখলাম, ও মোডেমের ডিভাইস ফাইলটা চাইছে। ‘wvdial.conf’ ফাইলে আগেই দেখেছি, ও ডিভাইস পাচ্ছিল ‘/dev/ttyUSB0′, আর নেটওয়ার্ক কনফিগ দেখলাম খুঁজছে ‘/dev/modem’, তাই এবার রুট হয়েই টার্মিনাল থেকে কমান্ড দিলাম:

ln -s /dev/ttyUSB0 /dev/modem

মানে, গোলাপ যে নামে ডাকো — যে নামে সিস্টেম তাকে খুঁজছে সেই নামেই তাকে ধরে দিলাম। এবার সরাসরি এগিয়ে গেলাম, নেটওয়ার্ক ম্যানেজারে নবমোডেম, কদম কদম বঢ়ায়ে যা। ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড তো আছেই, আর ফোন নম্বর ‘#777′ দিয়ে দিলাম, নাম দিলাম, ‘bsnl-nic’। সেভ করলাম। এবার এই নতুন মোডেম সংযোগ ppp0 ক্লিক করে উপরে ‘Activate’ ক্লিক করলাম। নেটওয়ার্ক কনফিগারেশন দেখলাম wvdial.conf ফাইলটাকে একটু বদলে নিয়েছে, স্বাভাবিক ভাবেই। নতুন চেহারাটা হল:

[Modem0]
Modem = /dev/modem
Baud = 115200
SetVolume = 0
Dial Command = ATDT
Init1 = ATZ
Init3 = ATM0
FlowControl = CRTSCTS
[Dialer bsnl_nic]
Username = ???

Password = ???

Phone = #777
Stupid Mode = 1
Init1 = ATZ
Inherits = Modem0

এবং আরামসে নেট এসে গেল মেশিনে। কিন্তু আমার আরাম এখনো আসেনি। সায়মিন্দু বলেছে নেটওয়ার্ক-ম্যানেজার দিয়ে করতে হবে, এবং জিনোমে। কারণ সবাই ওটাতেই করে। আমি নেটওয়ার্ক-ম্যানেজারকে অত্যন্ত খারাপবাসি। আমার ওয়ারলেস সে করতেই পারে না। কিন্তু খুবই ভালোভাবে আমি এই প্রবল শীতে দুপুরে ছাদের রোদে বসে নেট করতে পারি শুধু তিনটে কমান্ড দিয়ে, iwlist, iwconfig, এবং dhclient, ম্যানেজার-ট্যানেজার দিয়ে আমি কী করব? আর আমি এক্সএফসিই করি, খুবই আড়ম্বরহীন শান্ত সাদামাঠা ডেস্কটপ, আমার বেড়ে লাগে।

কিন্তু এখন তো করতেই হবে। ইয়াম গ্রুপইন্সটল জিনোম-ডেস্কটপ করে জিনোম লাগালাম। (ও, রুণা বকাবকি করে বলে লিখে রাখা গেল, Gnome হল জিনোম,আর Xfce হল এক্সএফসিই। ) এবার লগ-আউট করলাম। switchdesk gnome কমান্ড দিয়ে জিনোম করলাম। startx কমান্ড দিয়ে ফের চালু করলাম জিনোম, এবং উপরের তক্তাটায়, মানে Top Bar-এ, ওটাকে কী একটা বলে ডাকে, আমি নাম ভুলে গেছি, সেটায় নেটওয়ার্ক-ম্যানেজারের চিত্তির মানে আইকন দেখলাম চকচক করছে। সেটায় ক্লিক করে দেখলাম আরামসে পেয়ে গেছে ppp0, তার মানে, নেটওয়ার্ক ম্যানেজার দিয়েও ডেটা কার্ড পাওয়া গেল।

এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও এটা সত্যি যে এই মুহূর্তে আমি জিনোমে বসে ফায়ারফক্স দিয়ে এই লেখাটা লিখছি, ডেটা কার্ডের সংযোগে, এক্সএফসিই থেকে এপিফ্যানি দিয়ে নয়।

Filed under: গ্নু-লিনাক্স — dd @ 8:44 pm

Powered by WordPress