নেটখাতা

May 28, 2016

শংগঠনের নতুন ধাঁচা – চলো ভাই দিলীপ করি

চন্দ্রবিন্দুর গানের খুচরো পান ধার করে বলা যায়, সংগঠন আসলে বেজায় রকমেরই শংগঠন। চলো ভাই, একটা শং বানাই, গাজনের শং, ভজনের শং, পূজনের শং। কখনও লেনিনের শং, কখনও হো-চি-মিনের শং, কখনও দিলীপের শং। দিলীপ সিংহর শং সাজায় একটু নতুন একটা ধাঁচা, পুরো লতুন ধাঁচার ধূপের গন্ধ। এটাই দিলীপ কাম বিজেপির ইউএসপি। হাড়মুড়মুড়ি ব্যাপারটা দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারে ছিল একটা ব্যারাম – দিলীপ সেটাকে, হয়ত তার ঠাকুরদা মোদির লাইনেই, মোদির একটা ছবি দেখেছিলাম নেটে, বন্দুকপুজোয় রত – একটা বাজনার আরামে এনে দিল। পুলুশকে তুলে নাও : আমরা এই বাজনার আরাম দেব পশ্চিমবঙ্গকে।

আমি যখন শেষ আমরা ছিলাম, এই জীবনের বাল্যকালেই বলা যায়, সোয়ামি-ইস্তিরির মত আমরা না, শংগঠনের আমরা, তখন এই শংগঠন আমিও করেছি। চলো নানা মন্ত্র নানা যন্ত্র দিয়ে একটা শং বানাই। আমরা বানাতাম মার্ক্স লেনিন গুয়েভারা এরকম করতে করতে একদম শেষ ধাপে এসে অমিতাভ নন্দীদের শং। চলো বানাও, খাড়া করো, তারপর একটাই কাজ, সুখে শান্তিতে বংশানুক্রমে প্রণামী খাও, শং-এর পাদদেশে থালায় যা পড়বে। কখনও সে প্রণামী মাল্লু কখনও তা চুল্লু – এক কথায় পাওয়ার।

সেসব সর্বহারা মার্কা শং এখন ফ্যাশনের বাইরে। চলো এখন হাড়মুড়মুড়ি শং বানাই। ঠিকই আছে, ভারতের গল্প, বর্ষ বর্ষ জুড়ে ভরতের বাচ্চাদের গল্প। জীবনের পাটক্ষেতে যে বেজন্মার বাচ্চারা আসিতেছে চলে – জন্ম দেবে জন্ম দেবে বলে, জন্ম দিতে হয় যাহাদের, জন্ম দিয়া আসিয়াছে যারা। তাহাদের আদিপুরুষ তো সেই ভরত – শকুন্তলার বেজন্মা, তার বাপ যাকে নেয়নি। এখন হলে অবশ্য ইশকুলে বা পাসপোর্টে তাতে কোনও ঘাপলা হত না। কিন্তু তখনকার সেই আদি বেজন্মা তার নিজের নামে একটা দেশ গড়ে তুলল – জিস দেস কে বাসী হুঁ। মোদীর দেশ দিলীপের দেশ আরএসএসের দেশ আমার দেশ তোমার দেশ আদি বেজন্মার ডেরিভেটিভের ডেরিভেটিভের ডেরিভেটিভ বেজন্মাদের দেশ। এই হাঘরে হাভাতে হাবাপ-দের দেশে দিলীপই জম্পেশ – চলো, এবার দিলীপ করি।


Powered by WordPress