নেটখাতা

January 12, 2010

২০১১ অনেক দূর

২০১১ অনেকটা দূর, খুব অনেক দূর, বড্ড দূর হয়ে যাবে না তো তৃণমূলের?

এইমাত্র ফিরে এলাম, কলেজ যেতে না পেরে। অটোদের পথ অবরোধ। এবং উল্টোডাঙা বস্তিতে আগুনের জন্য ট্রেন বন্ধ।

আমার প্রায় শৈশব থেকে আমি সিপিএম রাজনীতির বদমাইশি চারদিকে নিয়ে বড় হয়েছি। তাই জানি, বা বলা ভাল বিশ্বাস করি, সমাপতন বলে কিছু হয় না। প্রথম অবরোধ উঠল একটার পরে, এবং আড়াইটে থেকে দ্বিতীয় অবরোধ। দ্বিতীয়টা ঘোষিত ভাবে তৃণমূলের, এবং প্রথমটা অঘোষিত। এই অবরোধের ফলে রেল লাইনের পূর্ব দিক জুড়ে থাকা বস্তিতে ও বাজারে পৌঁছতে পারল না জলের গাড়ি, তাই পুড়ে ছাই হয়ে গেল। ছাই মানে সোনার ছাই, মহার্ঘ ফ্ল্যাট উঠবে সেখানে, যা তার অবস্থান তাতে ফ্ল্যাটের দাম হবে কোটি টাকা বা তারও বেশি। এতটা মানুষ-ছাই-সোনা শূন্য থেকে বা নিছক সমাপতন থেকে এসেছে এ আমি বিশ্বাস করি না।

এবং ঠিক আগের ব্লগেই যা লিখেছিলাম, সিপিএম যেখানে এসে শেষ হল সেখান থেকেই তৃণমূলের শুরু।

কিন্তু শুরু হয়ে গেল বড্ড আগে। আমরা কোথাও আশা করতে শুরু করেছিলাম যে পশ্চিমবঙ্গের এই গনতন্ত্র বিরোধী এবং যে কোনও শুভবোধ বিরোধী সিপিএম-ফ্যাসিবাদের অবসান হবে বোধহয় তৃণমূলের হাতেই। ২০১১-য়। আমার অনেক বন্ধুর মতই আমিও বিরাট কিছু আশা করিনি তৃণমূলের কাছে শুধু এটুকু ছাড়া যে কুচক্রী কৃষ্ণ নিধনের লৌহমুষলের খণ্ড ঘটনাচক্রে এসে গেছে তৃণমূল নামক ব্যাধের হাতেই।

কিন্তু আজ যখন আমার খুব নিকট খুব পরিচিত মানুষগুলোর সঙ্গে কথা বলছিলাম, যাদের বেশ কয়েকজনের সবকিছু সর্বস্ব গেছে ওই সংগঠিত আগুনে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে, এই কয়েক মিনিট আগে, আমার মনে হচ্ছিল, ২০১১ বড্ড দূর হয়ে পড়বে না তো তৃণমূলের জন্য?

পিশাচের হাত থেকে পিশাচতরতার হাতে যেতে কি লোকে চাইবে?

Filed under: সামাজিক-রাজনৈতিক — dd @ 5:14 pm

3 Comments »

  1. সবচেয়ে বীভৎস জায়গাটা এই যে, সবটাই কেমন ঘেঁটে যাচ্ছে। ওখানে যাদের ঘর বা দোকান পুড়েছে আজ তাদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গেই প্রায় পারিবারিক সম্পর্ক আমার। তাদের একাধিক জনের ধারণা, ওখানে আগুন লাগানো হয়েছে তো বটেই, তবে সেটা লাগিয়েছে তৃণমূল নয়, সিপিএম। আমি জিগেশ করলাম, কিন্তু অবরোধটা তো ছিল তৃণমূলের।তাতে উত্তরটা একটু অনিশ্চিত হয়ে গেল। বলল, সে পিছনে কী ভাবে এদের ষড় হয়েছে তা জানিনা, কিন্তু লাভ হচ্ছে যে লোকগুলোর, যারা এই বস্তিটা উঠে যাওয়া চাইছিল তারা তো সিপিএম।

    সমস্যাটা এখানেই। লাভ প্রোমোটারদের, দুটো নামই তাদের, সিপিএম এবং তৃণমূল। কখনও তারা এই, কখনও তারা ওই।

    Comment by dd — January 12, 2010 @ 7:03 pm

  2. লোকে কী চায়, তা কি খুব স্পষ্ট? মনে তো হয় না। যেমন এতদিন লোকে চেয়েছে, তাই সিপিএম থেকেছে। ২০১১ সালে চাইলে থাকবে, না চাইলে থাকবে না। লোকে চেয়েছিল, তাই অবরোধ হয়েছে। লোকে চেয়েছিল, তাই আগুনে জল পড়তে দেরি হয়েছে। লোক কারা? যাদের দেখি, তারা? না! তারা তো লোক নয়! তারা হয় সিপিএম নয় তৃণমূল নয় অন্য কোনো পার্টি সদস্য।

    এবং সে কারণেই, যখন তারা মরে, আগুনে পুড়ে বা জলে ডুবে যেভাবেই হোক না কেন, মৃতেরা কোন্ শিবিরের, এই বিষয়টাই মুখ্য হয়ে যায়। মানুষকে বাঁচানো বা উদ্ধার করা রাজনীতিগত ভাবে গৌণ। (আর তা হবে না-ই বা কেন, পার্টিগুলো আমাদের বেঁচে থাকাটাকে বড্ড বেশি নির্ধারণ করছে যে।)

    যন্ত্রণার বিষয়, যখন জলে দেহ ফুলে যায়, আগুনে পুড়ে বিকৃত হয়ে যায়, তখন কে মরে? সহজ উত্তর, লোক।

    অর্থাৎ মৃতই একমাত্র সামাজিক বা সমাজচ্যুত প্রাণী যাকে ‘লোক’ আখ্যা দেওয়া যায়। সে কী চায় তা অস্পষ্ট। অস্পষ্ট এই অর্থে, লোকের ভাষা রাজনীতিক বোঝে না। তবে স্পষ্ট এটাই, সে মরতে চায়নি, কিন্তু একবার মৃত্যুর স্বাদ পাবার পর, একবার মুক্তকণ্ঠে নিজেকে লোক বলার পর সে আর জীবিত হতেও চায়নি।

    কারণ জীবিত হলেই সে লোক নয়, সিপিএম বা তৃণমূল বা অন্য কোনো পার্টি সদস্য।

    Comment by দিবাকর সরকার — January 13, 2010 @ 10:38 pm

  3. আসলে গোটাটাই একটা ভুল ব্লগ। ইস্টিশনে যা শুনেছিলাম তার ভিত্তিতে ফিরে এসে লেখা। তখনও ওখানে শুনেছিলাম যে অটোর অবরোধটা ছিল তৃণমূলের। আজ কাগজে দেখলাম, ওটা ছিল সিটুর। এবার তো গোটা হিসাবটাই মিলে গেল। তৃণমূল না, প্রকল্পটা সিপিএমের। কাল ওরা এত জোর দিয়ে বলছিল, এটা সিপিএম ঘটিয়েছে, তাতে অবাক হচ্ছিলাম। এখন তো বোঝাই যাচ্ছে।

    এ আমাদের চেনা পিশাচ। তিরিশ বছরেরও বেশি দিন ধরে চেনা। ওখানে যাদের ঘর দোকান পুড়েছে তাদের অনেকের সঙ্গেই আমার সম্পর্কটা এমন যে তাদের অনেকের পারিবারিক অশান্তিতেও এ অন্যের নামে আমার কাছে নালিশ করে। তাদের জীবনে যারা এই সর্বনাশ ঘটিয়েছে তাদের বিষয়ে আমার কোনও দার্শনিক অনিশ্চয়তা নেই। তাদের অনেককেই আমি সরাসরি চিনি। মানে এক সময় চিনতাম, যখন আমি সিপিএম করতাম।

    Comment by dd — January 13, 2010 @ 10:53 pm

RSS feed for comments on this post. TrackBack URI

Leave a comment

Powered by WordPress