নেটখাতা

September 10, 2008

দুটো বই এবং এক পশলা বিষণ্ণতা

২০০৬-এ আমার দুটি বই বেরোয়, একটি গ্নু-লিনাক্স নিয়ে, ‘গ্নু-লিনাক্স একটি ব্যক্তিগত যাত্রা’, প্রকাশক প্রজ্ঞা প্রকাশনী, আর অন্যটি জোড়া উপন্যাস: ‘নিরন্তর প্রব্রজ্যায়: দ্বিতীয় খসড়া’ /  ‘বুলা, তোমাকে’। প্রথমটির প্রাপ্তিস্থান চিরায়ত, এবং দ্বিতীয়টির প্রাপ্তিস্থান দেজ। গোড়ার দিকে লিনাক্সের বইটির বিষয়ে পরিবেশক চিরায়ত বেশ উৎসাহিত ছিল বলেই মনে হয়, কারণ, একাধিক জনের কাছেই শুনেছি, তারা বইটি কিনতে গেলে ওখানের লোকেরা বইটার বিষয়ে প্রশংসাবাচক কথাবার্তা বলতেন, এবং সেটা সম্পূর্ণই স্বতঃপ্রণোদিত। ব্যক্তিগত ভাবে এঁদের কাউকেই আমি চিনিনা। প্রথম বছরের বই বিক্রয়ের হিসাব এবং টাকাও সহজ এবং সম্মানজনক ভাবেই এসেছিল।

২০০৭ এর থেকে সমস্যাটা বাধে। হঠাৎ করেই এরা বই নেওয়া বন্ধ করে দেন, একাধিক ক্রেতাকেও ফিরিয়ে দেন বই নেই বলে। এবং হিসাব দেওয়া নিয়ে ঘোরাতে শুরু করেন। এবং এটা কেন ঘটছে সে বিষয়েও কিছু এরা জানান না। এবং অবভাসও দেজ পাবলিশার্সকে বই দেওয়া বন্ধ করে দেয়।

শেষ অব্দি, বেশ কয়েক মাস ঘোরানোর পর, এই সপ্তাহে তাদের কাছে যে বইগুলি ছিল বই বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে, এবং তার আগে বিক্রি হওয়া বইয়ের টাকা দেয় চিরায়ত। গত কালই ব্যবস্থা করা হয়, নতুন একজন পরিবেশকের, যেখানে দুটো বই-ই পাওয়া যাবে:

প্রকাশ ভবন, ১৫ বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কলকাতা ৭৩। ফোন: ২২৪১৮২৬৬।
আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর ‘দেশ’ পত্রিকায় বইয়ের বিজ্ঞাপনও দেওয়া হবে। বিজ্ঞাপন দিতে মন চায়নি আমার কিছুতেই, কিন্তু বইদুটোর পাওয়া না-পাওয়া নিয়ে এই সংশয়ে ঝঞ্ঝাট হচ্ছিল আমার দুই বন্ধুর, যাদের মমতায় এই বইদুটো বেরিয়েছে। এবং বইয়ে ছাপা প্রাপ্তিস্থান যেহেতু বদলে গেল, তাই এটা প্রয়োজনীয়ও ছিল। তাই দিতেই হল বিজ্ঞাপন।

অবশ্যই, আমার নিজের কাছে একটা ব্যাখ্যা আছে, একেবারেই বিচ্ছিন্ন এবং অসম্পর্কিত দুটো সংস্থার একই সময়ে এই একই অদ্ভুত আচরণের, নিজেদের লাভের বিপরীতে গিয়ে। এবং কলকাতার রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সম্পর্কের বিষয়ে যাদের ন্যূনতম ধারণা আছে তাদের অনেকের কাছেই ব্যাখ্যাটা সেই একই। কিন্তু সেটা লেখার মত কোনও প্রমাণ আমার হাতে নেই, যা আমার মাথায় আছে তা নিতান্তই কিছু পরিস্থিতিসচেতন আন্দাজ। মজার কথা এই যে এই বইদুটোর কোনওটারই সেই অর্থে কোনও রাজনৈতিক সত্তা নেই, গত দুই দশক জুড়ে কোনও সরাসরি রাজনীতির ছোঁয়া নেই এদের লেখকেরও, এই লেখকের প্রতি এমন কিছু মানুষের বিরক্তি ছাড়া যারা রাজনৈতিক ভাবে শক্তিমান, বা, যাদের রাজনৈতিক ভাবে শক্তিমান মাতুল বা পিতৃব্য আছেন। মাতুল বা পিতৃব্যেরা তো শুভাকাঙ্খীই হয়ে থাকেন, হয়তো আনন্দবাজার গ্রুপে বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিরুদ্ধে আমার কুসংস্কার দূরীকরণেই এরা এটা করেছেন।
যারা এই বই‌দুটো কম্পুটারে পড়তে চান, তারা পেতে পারেন ওয়েবসাইট থেকে, দীপঙ্কর দাশ / ত্রিদিব সেনগুপ্তর লেখালেখি, ওখানে গেলে বাংলা লেখালেখির আর লিনাক্সের পাতায় পেয়ে যাবেন।

4 Comments »

  1. Sir,statement you have given on net book can not read carefully,may be my computer did not support in bengali format.If you through light on this matter.

    Comment by Siddhartha Maity — October 5, 2009 @ 6:59 pm

  2. সিদ্ধার্থ, তোর সমস্যাটা ঠিক কী হচ্ছে না জানলে উত্তর দেওয়া যায় নাকি। তুই আমায় মেলও করতে পারিস কী সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে।

    Comment by dd — October 5, 2009 @ 10:19 pm

  3. Dipankar da

    নিয়ে,= িনেয়, if same, why not second type i.e.িনেয় . it is easy to read. Sir we are poor man.please আমােদর েদখেবন একটউ. I try to make this bengali sentence through cut and paste.

    anil

    Comment by anil kumar saha — September 12, 2011 @ 11:34 pm

  4. অনিল, তুই একটুও গরিব না, অন্তত অামার চেয়ে তো কিছুতেই না, এবং আমি বেশ বড়লোক, তাই তুই গরিব হতে চাইলেও পারছিস না।অার, ‘নিয়ে’ অার ‘নেয়’ নিয়ে কী যে লিখেছিস অামি বুঝতেই পারলাম না। তুই পরে অামায় বোঝাস, মেলে বা ফোনে।

    Comment by dd — February 1, 2012 @ 10:18 am

RSS feed for comments on this post. TrackBack URI

Leave a comment

Powered by WordPress