নেটখাতা

July 22, 2009

মাউন্ট ব্যাটন সাহেব-অ, সাধের ব্যাটন কার হাতে থুইয়া গেলা-অ

শিলঙে রিফ্রেশার কোর্সে গিয়ে সেই যে পেটের গোলযোগ ফেরত এল, এখনো সেটা নেই হয়ে যায়নি। কোনও কিছুতেই লাগাও পাচ্ছি না একদম, ক্লান্তও লাগছে খুব। তাই এই ব্লগোক্তিটা হবে খুবই সংক্ষিপ্ত।

মধ্যমগ্রামের নাদচিত্র নিয়ে এই ব্লগে প্রচুর কথা আছে। নতুন করে কিছু বলার নেই, এমনই মহিমা তার। কিন্তু সেখানে একটা বদল এসেছে। গভীর ও গম্ভীর রাজনৈতিক বদল। আগে যেখানে মাইকাক্রান্ত হতাম আমরা রক্তদান আর তার ‘সাথীদের খুনে রাঙা’ শ্রেণীসচেতনতা দিয়ে, এখন সেখানে এসেছে নন্দীগ্রামের ইজ্জত ও সিঙ্গুরের মাটি নিয়ে সুমন। এর ইঙ্গিত বোঝা গেছিল ইলেকশনের আগেই, ইলেকশন মিটিঙের চোঙা ফোঁকার গুঁতোয় সব দরজা জানলা বন্ধ করার পরও একান্ত দাম্পত্য কথোপকথন চালাতে হচ্ছিল গলার শির ফুলিয়ে চীৎকার করে। আমার এক প্রতিবেশী বলেছিলেন, যেরকম চেঁচাচ্ছে, ভোট আমি আর দেব না তৃণমূলকে। জানিনা শেষ অব্দি দিয়েছিলেন কিনা। কারা ভয়ানকতর বলে মনে হয়েছিল তার।

শুধু এই শব্দের ট্রাডিশন সমানে চলছে তাই নয়। আছে আরও বহু নানা উত্তরাধিকার।

আমার এক ছাত্র তার বাড়ি করতে শুরু করেছিল সিপিএম আমলে, আর বাড়ি তৈরি এখনও চলছে, তৃণমূল আমল আসব আসব করছে বলে শোনা যাচ্ছে। এতে, ইতিমধ্যেই, তার বাড়ির ঠিকাদারদের কাছ থেকে কে তোলা তুলবে সেই পক্ষ গেছে বদলে। সিপিএমের তোলাবাজি পৌঁছে গেছে একদম গ্রাসরুট স্তরে।

আমার আর একজন পরিচিত, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তার একটা মাছের ব্যবসা আছে। তার গল্পটাও সেই একই। ইলেকশনের আগে ছিল সিপিএমের বীরত্ব এবং সিপিএমের বীরভাতা। ইতিমধ্যেই সেটা চলে গেছে তৃণমূলে। এখনো পরিমাণে কিঞ্চিৎ ন্যূন আছে। তবে আশা করা যাচ্ছে ২০১১র পর সমতাবিধান ঘটে যাবে।

কলেজে কলেজে, স্কুলে স্কুলে, এমনকি বিশ্বের বিদ্যা লয় করার এক্তিয়ারেও, যেসব পোকা আর মাকড়ে ভরে দেওয়া হয়েছে, তারা এখনও চাকরি করবে বহুবছর, এবং তাই গজাতে থাকবে আরও প্রচুরতর পোকামাকড়ের ডিম, এ তো জানা ছিলই। ইতিমধ্যেই বহু পোকা প্রজাতি বদলাতে শুরু করেছে, অন্ততঃ তার পূর্বাভাস আসছে বেশ জোরালো ভাবেই। জুরাসিক পার্কে দেখেছিলাম, কী ভাবে সরীসৃপরা লিঙ্গ বদলায়, আর এ তো মেরুদণ্ডীই নয়, বদলটা আরও অনেক অনায়াস হওয়ারই কথা। তাই পোকার কামড় কমার কোনও সংবাদ আসার আগেই খবরে খতম।

ইত্যাদি এবং ইত্যাদি।

মাউন্ট ব্যাটন সাহেব-অ, সাধের ব্যাটন কার হাতে থুইয়া গেলা-অ?

Filed under: সামাজিক-রাজনৈতিক — dd @ 9:22 pm

2 Comments »

  1. ১। তোমার লেখায় পেটের গোলযোগ ধরা পড়েছে।
    ২। “সিপিএমের তোলাবাজি পৌঁছে গেছে একদম গ্রাসরুট স্তরে।” এই বাক্যটা লিখতেই পারতে, “সিপিএমের তোলাবাজি পৌঁছে গেছে একদম তৃণমূল স্তরে।”
    ৩। লেখাটার মাধ্যমে ঠিক কী বলতে চাও, মাথায় ঢোকেনি। অবশ্য ঢুকলে বলতাম, কেনই বা বলতে চাইছ, মাথায় ঢুকছে না।

    Comment by দিবাকর সরকার — July 22, 2009 @ 10:25 pm

  2. মাউন্টব্যাটন সাহেব তো মরে ভূত কবে… কালাবাজারের প্যাঁটরা হুতুম পেঁচা গ্লোবাল ক্যাপিটালের সামনে সমানে চোয়া ঢেঁকুর তুলছে। চাচা, সর্দার আর মৌলানাও অনেকদিন হলো পটল তুলেছেন, মারাদোনা বাদে সুভাষের জন্যেও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদার লোক বিশেষ নাই। এদিকে কাঠের ব্যাটন ফাইবার হয়েছে, ওদিকে রাজকন্যা গুলিসূতো খেয়ে ফেলেছে, নব্য খোক্কসরা মাইক নিয়ে বেজায় চেঁচাচ্ছে, সব গাছ কেটে ফেলাতে পূরোনো সময়ের মেটাফরে আটকে থাকা ডালিমকুমার, বুদ্ধু ভুতূম প্রভৃতি হাইপার গল্প আর গানেরা স্রেফ ভ্যানিস।

    তবে দেখবেন অনেককাল ধরে কীটনাশক দেওয়া চাল খেয়ে আসায় একটা উপকার পাবেনই- পোকা-মাকড় আপাতত ধারে ঘেঁষবে না; যদিও গা ঘিন ঘিন করাটা আটকাতে পারবেন না। ‘ম্যাডলি বাঙ্গালি’ সমকালে ফেঁসে যাওয়া মাইকে সুমন, সত্যি বলুন, একটু, একটুও মজা লাগছে না?

    Comment by Buro — August 5, 2009 @ 3:20 pm

RSS feed for comments on this post. TrackBack URI

Leave a comment

Powered by WordPress