নেটখাতা

August 5, 2012

লাল আওয়াজ ক্রমে আসিতেছে …

আওয়াজ ক্রমে আসিতেছে, ক্রমে লাল কমলা কম লাল বেশি লাল রক্তলাল বদরক্তলাল সবই ছড়াইয়া পড়িবে, আমরা প্রাকৃতজনেরা সেই আওয়াজের দাক্ষিণ্য হইতে বঞ্চিত হইব না …

আরও রক্তদান বলে কথা — রক্তে রক্তে রক্তে লাল বিপ বিপ বিপ্লব আসছে কাল। ওদিকে লক্ষ্মণ শেঠের হাসপাতাল ফের অনুমোদিত। এদিকে মধ্যমগ্রামের লক্ষণ শেঠ বলে পরিচিত জননেতাটি, শাসন হারানোর বেদনা, পার্টি থেকে প্রায় বহিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা কাটিয়ে, তার স্বাভাবিকতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত। ২৪ পরগনা ভলান্টারী (ভুল বানান আমার নয়)  ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশনের নামে তার বাৎসরিক মোচ্ছব, এবং সেই সূত্রে মাইকের পর মাইকে সজ্জিত সোদপুর রোড গান বাজনা ইত্যাদির আওয়াজের পরাক্রম — আবার সে এসেছে ফিরিয়া।

তবে কিছু পরিবর্তনও আছে, এবার তাদের আওয়াজের তাণ্ডবের পাশে ব্যানারে বিবেকানন্দও এসেছেন — মা ভৈ, কে বলল সিপিএম লুপ্ত হয়ে গেছে — তার আওয়াজেই প্রমাণ, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতীয় মনীষীদের নিরিখে নিজেদের পুনর্মূল্যায়ণের চিহ্ন প্রকাশিত হতে শুরু করেছে আওয়াজে আওয়াজে রক্তদানে রক্তদানে। তাতে মধ্যমগ্রামের মানুষের কান? কাজ? সারাদিন ধরে লেখাপড়া ইত্যাদি শিকেয়? কী এসে যায় তাতে? চৌত্রিশ বছর ধরে আমাদের অভ্যেস করিয়ে আসা হয়েছে। মধ্যে একবছর নয় হাল কিঞ্চিত নরম ছিল, হলদিয়ার লক্ষ্মণদাও ছিলেন জেলে, এবার আবার, আওয়াজ ক্রমে আসিতেছে  …

Filed under: Uncategorized — dd @ 12:43 pm

1 Comment »

  1. তুমি কি প্রত্যাশা করো তুমি বাড়িতে বসে লেখাপড়া করবে আর ওরা গান থামিয়ে দেবে? পড়ুয়া যেমন পড়ছে, ওরা তেমনি নাচছে, গাইছে, রঙিন জল সহ টোয়েন্টি নাইন খেলছে। এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। লক্ষ্মণ সর্বত্র ছড়িয়ে, শুধু কোনো ক্ষেত্রেই রেখা নেই।

    তুমি তো জানো আমার বাবার গুরুতর অবস্থা সম্পর্কে। তোমার থেকেও বেশি জানে আমার পাশের ফ্ল্যাটের একটি ছেলে। সে অবহিত, বাবা আমার মৃত্যুকে পাশে নিয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন, দীর্ঘ দিন। আমার থেকে সাত-আট বছরের বড়ো সেই ছেলে যখন হিন্দি গান বাজায়, ডেক-মারফত তা চাঁদসী ভবন মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। নিষেধ করেছি। আমার মা-ও ঠাকুরঘর থেকে প্রচণ্ড বকাঝকা করেছিলেন। দুদিন স্তিমিত থেকেই আবার শুরু। ছেলেটির বাবা-মা কিন্তু বেঁচে। সিপিএম-এর ছুঁড়ে দেওয়া হাড় খেয়েই দিব্য জীবন ধারণ করে চলেছেন তাঁরা। নিপাট শান্ত ও নির্বিকার তাঁদের চাহনি। “বাচ্চা ছেলে”, “কত রাতে বাড়ি ফেরে”, “একটু গানও শুনবে না!”

    প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চূড়ান্ত কুশিক্ষা ছড়িয়ে দিয়ে সিপিএম বেঁচে আছে। সিপিএম, তৃণমূল — চল্লিশের কোঠায় বয়স যাদের, তারা তো সবাই এই কুশিক্ষা বহন করে চলেছে তাদের কোষে। তাদের মধ্যে কিছু এঁড়ে লোক জন্মেছে, তোমার মতো, যারা “আওয়াজ ক্রমে আসিতেছে” বলে আওয়াজ আসার পথে কিঞ্চিৎ হলেও বাধা সৃষ্টি করে।

    ডেক বন্ধ করতে বলে আমি চেঁচাচ্ছি, অথচ বাবাকে একবারও বলছি না, ~ মরে যাও, কানে আওয়াজ ঢুকবে না।

    এখন মনে হয় লক্ষ্মণীয় গ্লোবালাইজেশন-এর যুগে দ্বিতীয় প্রস্তাবটিও ভেবে দেখা দরকার।

    Comment by দিবাকর সরকার — October 7, 2012 @ 2:23 pm

RSS feed for comments on this post. TrackBack URI

Leave a comment

Powered by WordPress