নেটখাতা

October 20, 2009

ফাংশন মধ্যমগ্রামে, নিউব্যারাকপুরে

এই নামের আগের ব্লগটারই একটা সংযোজন এটা। বাজির আর মাইকের আওয়াজে অতিষ্ঠ হয়ে শুয়ে পড়েছিলাম ঘুমের ওষুধ খেয়ে। রাত বারোটা নাগাদ ফোন এল আমার ওই ছাত্রের। একটু দেখা যাবে, নিউব্যারাকপুর থানার ফোন নম্বর খুঁজে পাওয়া যায় কিনা। ওর চার বছরের মেয়ে খাটের তলায় ঢুকে যেতে চাইছে, এমনই বীভৎস বাজির আওয়াজ হচ্ছে। আমি বললাম, দেখি পাই কিনা। মাথায় রাখবেন, ওর ছোট মেয়েটি জন্মেছে তিরিশে সেপ্টেম্বর, মানে গত রাতে তার বয়স ছিল উনিশ দিন।

আমি ঘুম তাড়িয়ে উঠে নেটে খুঁজে, যতদূর সম্ভব ঠিক নম্বরটা পেলাম। ওর সেলে পর পর দুবার ফোন করলাম। বেজে গেল। তৃতীয়বার পেলাম। ও বলল, আর দরকার নেই। এখন পুলিশ এলে ওরা আমার ফ্ল্যাটে এসে চড়াও হবে। ও গিয়েছিল ওদের বারণ করতে — গোটা পঁচিশেক মাতাল। ও তাদের বলেছিল, আপনারা এসে দেখে যান আমার বাচ্চাদুটোর কী অবস্থা। তাতে তারা জানায়, একটা দিন, পুজোর আনন্দের দিন — এসব হবে।

আর একটা খবরও এখানে খুব জরুরি লাগছে। আমার এক সহকর্মী, রাত নটা নাগাদ তার আওয়াজের জন্য পাগল পাগল অবস্থা, কিন্তু সে জানে, এর আগে অভিজ্ঞতা আছে উল্টোডাঙ্গা থানায় অর্থহীন ফোন করার, শেষ অব্দি সমস্ত দরজা জানলা বন্ধ করে, ভিতরে তার ডাইনিং প্লেসে এসে শুয়েছিল। এইসময় তার কাছে একটা ফোন আসে তার এক আত্মীয়র, সুদূর আজমির থেকে, রাজস্থান, দিওয়ালির গর্ভগৃহ, সে তাকে ফোনে জিগেশ করে, তোমার ওখানে এত আওয়াজ কিসের?

এরপর আমার ওই সহকর্মী, আজমিরে কোনও আওয়াজের ব্যাঘাত নেই শুনে, ফোন করে উত্তরাঞ্চলের দেরাদুনে, তার এক বন্ধুকে, এবং খুঁজে খুঁজে নম্বর বার করে, ব্যাঙ্গালোরে, এবং পাটনায়। এবং, মজার কথা, ব্যাঙ্গালোর সম্পর্কে আমি ঠিক জানিনা, কিন্তু আর প্রত্যেকটা জায়গাতেই বছরের বৃহত্তম একটা উৎসব দিওয়ালি। সেখানে কোনও ব্যাঘাত নেই।

আর আমাদের আছে। এমনকি দিওয়ালির দুই দিন পরেও।

আমার ওই ছাত্রটি আমায় ফোন শেষ করার আগে বলেছিল, জানো, এটা এখন আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব, আমাদের শান্তিটা বাঁচানো। নইলে আর বাঁচা যাবে না।

আমি আর জানিনা, বুঝতে পারিনা, কী রাজনীতি, কোনটা রাজনৈতিক দায়িত্ব। একটা সময় রাজনীতি নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম, তার পরে দেখলাম সেই রাজনীতি কী ভাবে দানব আর পিশাচের জন্ম দেয়। কিন্তু এটাও তো ঠিক, কিছু একটা না করলে আর বাঁচা যাচ্ছে না। বস্তুতই, শব্দ ও আওয়াজ তো এমন জিনিস যা ঘরের অন্দরে ঢুকে আক্রমণ করে, আলো নয় যে অন্যদিকে তাকালে তার থেকে বাঁচতে পারব, ঘরের অন্দরতম বিন্দুতে এসে অব্দি বাঁচা যায় না। অন্দর বলেই আর কিছু থাকে না। এইজন্যেই বোধহয়, উৎসবের নামে এই নিপীড়ন যারা চালায়, তাদের কাছে আওয়াজটা এত জরুরি অঙ্গ। কিছু একটা করা দরকার বোধহয়, সত্যিই, কিন্তু কী করার আছে আমি জানিনা।

No Comments »

No comments yet.

RSS feed for comments on this post. TrackBack URI

Leave a comment

Powered by WordPress