নেটখাতা

October 30, 2009

মা জগদ্ধাত্রীর ছানারা এবং মধ্যমগ্রাম পুলিশ

কখনও কখনও নিজের অভিজ্ঞতাকে নিজেই বিশ্বাস করার ইচ্ছা হয়না। আজকের অভিজ্ঞতাটাও অনেকটা সেইরকম। এই সোমবার থেকে আজ শুক্রবার এই পাঁচ দিন, যেমন আগেই লিখেছিলাম, আমরা ঘুমোতে যাচ্ছিলাম এবং ঘুম থেকে উঠছিলাম জগদ্ধাত্রীর মাইকিত চীৎকারে। মধ্যমগ্রামের নাড়িভুড়ি জুড়ে ছড়ানো পূজারীদের যদি ছেড়েও দি, ঠিক সোদপুর রোডের উপরেই প্রায় গোটা কয়েক। বিশেষ করে দুটো, স্টেশনের গায়ে সুভাষপল্লীতে  এবং মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ির গায়েই রাস্তার উপরে।

আমার এক প্রতিবেশীর ছেলের কাল কী একটা পরীক্ষা আছে, খুব চাপে ছিল পরীক্ষা নিয়ে। আজ সকালে ওর বাবা, আর কিছুতেই পেরে-না-উঠে ফোন করলেন মধ্যমগ্রাম থানায়, ২৫৩৮৩২৯৪ নম্বরে। আমি সরাসরি শুনিনি, কিন্তু উনি যা বললেন, যে অফিসারটি ধরেন, তিনি খুব অবাক হয়ে বলেন, কই কেউ তো কিছু জানায়নি আমাদের। এবং এই ফোনটা হয় আটটার দু-পাঁচ মিনিট আগে। এর মিনিট চল্লিশেকের ভিতরই দুটো পুজোর মাইকই বন্ধ হয়ে যায়। এবং এখনও, এই বেলা সওয়া এগারোটা অব্দিও আর শোনা যাচ্ছে না। এবং সকালে নিজের ঘরে বসে, জানলা দরজা বন্ধ না-করেই লেখাপড়া করা গেল এতক্ষণ। মধ্যমগ্রামের নিরিখে এ প্রায় অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা।

জয়টা কার দেব, মা জগদ্ধাত্রীর, নাকি মধ্যমগ্রাম পুলিশের?

3 Comments »

  1. আমাদের দেশেও পুজোর সময় ঢাক ও শীত এলেই মোল্লাদের ওয়াজ মাহফিল । মাঝে মাঝে মাথায় খুন চাপে ।

    Comment by হাসিব — November 1, 2009 @ 3:21 pm

  2. সেদিন ঠিক এই কথাটাই আমার মনে হচ্ছিল একটা সিনেমা দেখতে দেখতে। আমি কোনওদিন অন্য দেশে যাইনি। অন্য দেশ যা দেখি ফিল্মে। পাকিস্তানের পটভূমিতে একটা ছবি ‘এ মাইটি হার্ট’ দেখার সময় ঠিক এই একইরকম উচ্চকিত সশব্দতার কথা মাথায় আসছিল আমার। অন্তত এই তিনটে দেশের, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান — সব কিছুই এত বেশি এক রকমের।

    Comment by dd — November 1, 2009 @ 8:01 pm

  3. ও, মধ্যমগ্রামে আবার প্যান্ডেল বাঁধা হয়েছে — রাস, তার মানে ফের শুরু হবে কাল থেকে মাইকপালন।

    Comment by dd — November 1, 2009 @ 8:03 pm

RSS feed for comments on this post. TrackBack URI

Leave a comment

Powered by WordPress