সোনা তখন এত বিহ্বল, চোখ খুলে তাকাতেও পারছে না। এইমাত্র অর্গাজম হল তার। আমার আঙুলের যে বিদ্যুৎ দিয়ে কোপারনিকাসের খাদের গায়ে এখনো ব্রহ্মাণ্ডের অলৌকিকতম পুতুলটা বানাচ্ছিলাম এতদিন, সেই সমস্ত এবং আরো বহু যাদু বিদ্যুৎ আমি উজাড় করে দিয়েছিলাম। আমি বসেছিলাম ঝুঁকে। প্রেমে আর স্নেহে মানুষ যতটা ঝুঁকতে পারে, তার চেয়েও বেশি, একটু ক্র্যাম্প হচ্ছিল আমার। কিন্তু ছি, সেই মুহূর্তে তা কখনো বলা যায়? আমার বাঁ উরুর উপর তখন শুয়ে আছে সোনা, তার মুখ কপাল ন্যস্ত আমার লিঙ্গমূলে, আমার ভাষ্কর আঙুল যাবতীয় বিলুপ্ত সানাইয়ের কোমলতা সঞ্চার করছে প্রসারমান তার ক্লিটোরিসে, সোনার সমস্ত শরীর ছিটকে উঠছে, বারবার। দুই হাতে আঁকড়ে ধরা আমার কোমরের চামড়ায় আমি বারবার অনুভব করছি সেই আক্ষেপ,আর এক অনাহরিতপূর্ব পুণ্যে আমার তনুমন উপচে যাচ্ছিল। তারপরই সেই চূড়ান্ত মুহূর্ত।
সোনা তখন এত বিহ্বল, চোখ খুলে তাকাতেও পারছে না। এইমাত্র অর্গাজম হল তার। অর্গাজমমেদুর সোনা আমার তলপেট পেট বুক বেয়ে উঠে এল স্তনবৃন্ত অব্দি। চুষতেই থাকল। আলো দৃষ্টি এবং বাস্তবতার প্রতি আমার এবার বিরক্তির পালা। সময় অনস্তিত্ত্ব থাকা শেষ হলে সোনার তাই নিজের দিকে তাকালাম, তখন পরিবর্তনটা ঘটতে শুরু করেছে। বিস্ময় আরাম আর পরিপূর্ণতা বলয়ের পর বলয়ে আমাকে উত্তীর্ণ করে চলেছে। আমি দেখছি, নিটোল ভরাট কোমল স্তনে ভরে উঠছে আমার বুক। কী অদ্ভুত সেই অনুভূতি, আর দু-চোখ বন্ধ করে উচ্চকিত পরিতৃপ্তিতে তদ্গত আরামে সোনা দুধ খাচ্ছে, আমি সোনার মা এখন, এখন থেকে।
কোথাও আমি জানতাম, আগে থেকেই জানতাম, এরকমই ঘটবে। সত্যিকারের ভালোবাসা হলে এমনটাই হওয়ার কথা। তেমন ভালোবাসা না হলে আমি সোনাকে খুঁজে পেলাম কী করে? বিপরীত-ভূমির এই অপ্রশ্নেয় মহাজাগতিক অন্ধকারে? কোনো আলোর কোনো উপস্থিতি আদিম বিষ্ফোরণের মুহূর্ত থেকে এখনো অব্দি কখনো এই অন্ধকারকে ছোঁয়নি, দূষিত করেনি।
সোনার প্রেম থেকে প্রবাহিত যাদু আমাকে অনন্ত বদলে ঠেলে দিয়েছিল, এবং আমায় অনন্ত করেছিল, সেই অগণ্য বদলের মধ্যে এটাও ছিল একটা। আমি অমর হয়ে গেলাম। আজো প্রত্যহ, এতগুলো যুগের পরও,অনেক নতুন নতুন বদল আমি আবিষ্কার করে চলেছি। সোনা আর নেই, তার যাদু আছে। উলটো পিঠে, আমাদের দিকে, সোনাদের ঠিক বিপরীত, এখানে শেষহীন লয়হীন নিরবচ্ছিন্ন আলোকসম্প্রমাত। মেয়ার ইমব্রিয়াম অধিত্যকায়, আলোকিত জগতের উত্তরপ্রান্তের ধার ঘেঁষে, ১০ ডিগ্রি উত্তর ২০ ডিগ্রি প্রতীচী, কোনো এক ইতিহাসহীন উল্কাপাতের চিহ্ন কোপারনিকাসের প্রসার প্রায় একশো কিলোমিটার। অজস্র মানুষ কাজ করে চলেছে গোটা কোপারনিকাস জুড়ে। একটা শিল্পকর্ম মানে তো শুধু একটা শিল্পী নয়, কত কত মানুষের শ্রম তাতে নিহিত থাকে। এই অসংখ্য মানুষের কাউকে এখন আমার আর ভালোবাসতে অসুবিধে হয় না। সে পুরুষ হোক আর নারী। তাদের আসতেই হয় আমার কাছে। সম্পূর্ণ নিষ্পত্র নির্বৃক্ষ নির্বারি এই আলোকিত জগতে তৃষ্ণাই প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং চূড়ান্ত হেতু প্রতিটি প্রক্রিয়ার। আমার কাছে তাদের আসতেই হয়। এক অর্থে বলা যায়, আমার থেকেই এখন প্রবাহিত হয় কোপারনিকাসের প্রাণ। বিপরীতভূমির অন্ধকার থেকে, সোনার থেকে এই জাদু এসেছে আমার ভিতর।
ব্রহ্মাণ্ডের অলৌকিকতম পুতুল তৈরির এবং তাতে প্রাণপ্রতিষ্ঠার কাজ চলছে, তার নাম রেখেছি সোনা।